Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:১৪
সন্ধ্যা নদীতে লঞ্চডুবি, উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা
রাহাত খান, দাসেরহাট (বানারীপাড়া) থেকে ফিরে
সন্ধ্যা নদীতে লঞ্চডুবি, উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার দাসেরহাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে যাত্রীসহ ডুবে যাওয়া ছোট আকৃতির লঞ্চটি প্রায় ২১ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।  

বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক বৃহস্পতিবার সকাল পৌঁনে ৯টায় প্রায় ৫০ ফুট গভীর নদীর তলদেশ থেকে এই লঞ্চটি পানির উপরিভাগে টেনে তোলে।

এ সময় লঞ্চটিতে তল্লাশি করে আরও ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে বিআইডব্লিউটিএ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। এ নিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চ থেকে বুধবার ১৩ জন এবং বৃহস্পতিবার আরো ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বুধবার দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা এক নারীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বৃহস্পতিবার তাকেও মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত দুর্ঘটনায় মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন।  

এছাড়া নৌযানটি পানির উপরে টেনে তোলার পরপরই উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় বলেও জানান তিনি।  

বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান জানান, উদ্ধারের পর দুর্ঘটনা কবলিত নৌযানটি আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।  

অবৈধভাবে লঞ্চ চালিয়ে এতগুলো মানুষের প্রানহানির ঘটানোর অভিযোগে নৌযান মালিক ইউসুফ আলী হাওলাদারকে আটকের চেষ্টা চলছে বলেও ওসি জানিয়েছেন।

এদিকে বানারীপাড়া-হাবিবপুর রুটে চলাচলকারী ছোট লঞ্চটির কোনো রেজিস্ট্রেশন বা রুট পারমিট ছিল না। তাহলে নৌযানটি কিভাবে চলাচল করতো এবং ওই নৌযান মালিকের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে বরিশাল নদী বন্দর কর্মকতা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাদের (বিআইডব্লিউটিএ) লোকবল সংকট রয়েছে। এসব অননুমোদিত নৌযান চলাচল বন্ধের জন্য স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও এ ধরনের অনেক নৌযান চলাচল করছে বলে তিনি স্বীকার করেন।  

দুর্ঘটনা কবলিত নৌযান ঐশী প্লাস এর মালিক বানারীপাড়া পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইউসুফ আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে মেরিন আইনে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।  

অপরদিকে, থানা পুলিশের নিখোঁজ তালিকায় ২৮ জনের নাম রয়েছে। এ পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ১৭টি। পুলিশের হিসেবেই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১১ জন। তাই স্বজনরা এখনও নদী তীরে আহাজারি করছেন। তারা জীবিত কিংবা মৃত অবস্থায় নিখোঁজ স্বজনের খোঁজ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।  

নিখোঁজদের বিষয়ে সুরহা না করে উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করার ঘটনাকে প্রশাসনের কারসাঁজি বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টায় উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক সন্ধ্যা নদীর দাসেরহাট পয়েন্টে পৌঁছে। তারা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছার পরই উদ্ধার অভিযানের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে থাকে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সকাল ৭টার পর স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা নদীর মধ্যে অবস্থানরত উদ্ধারকারীদের লক্ষ্য করে ঢিলও ছোড়ে।  

পরে উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম এবং থানার ওসি মো. জিয়াউল আহসান দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন। যদিও সকল প্রস্তুতি শেষে সকাল ৮টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক অভিযান শুরুর প্রায় অর্ধঘণ্টা পরই ডুবে থাকা লঞ্চটি পানির উপরে টেনে তোলে।  

গত বুধবার সকাল ১১টায় বরিশালের বানারীপাড়া লঞ্চঘাট থেকে পাশ্ববর্তী উপজেলা উজিরপুরের হাবিবপুরে যাওয়ার পথে দাসেরহাট বাজার সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যায় ঐশী প্লাস নামে ছোট লঞ্চটি। ডুবে যাওয়ার সময় লঞ্চটিতে অর্ধশত যাত্রী ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।  

বিডি-প্রতিদিন/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬/ এনায়েত করিম 

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow