Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৩১
রৌমারীতে সরকারি রাস্তার গাছ কর্তনের অভিযোগ
সাখাওয়াত হোসেন সাখা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)
রৌমারীতে সরকারি রাস্তার গাছ কর্তনের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের অধীনে বলদমারা সড়কের ৬৫টি জীবন্ত গাছ অবৈধ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। অবৈধভাবে গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ কেটে ফেলা গাছের গুঁড়ি জব্দ করে। ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে ৪ জন স্থানীয় ব্যক্তি ওইসব কাছ দুই গাছ ব্যবসায়ির কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

উপজেলার বলদমারা সড়কের প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে জীবন্ত গাছগুলো গত সোমবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রকাশ্যেই কেটে নেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন অভিযোগ করেন, গত ২০০৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অধিনে বলদমারা সড়কের দু’পাশে গাছ লাগানো হয়েছিল। আমাকে না জানিয়ে শোভাবর্ধনকারী ইউকিলিবটাস জাতের অপরিপক্ক জীবন্ত গাছগুলো কেটে ফেলে একই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল করিম, সাইদুর রহমান, বাহার আলী ও আইয়ুব আলী নামের ৪ অসাধু ব্যক্তি। এই ৪ অসাধু অবৈধভাবে গাছ গুলো কেটে বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি জানার পর আমি বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় অভিযোগ দায়ের করি। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কেটে ফেলা গাছের ৮০টি গুঁড়ি জব্দ করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাইটকামারী তাহের মোড় থেকে বলদমারা নৌকা ঘাট পর্যন্ত সড়কের অবৈধভাবে কাটা গাছের গুঁড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। গাছ ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল ও সায়েজ উদ্দিন জানান, আমরা ৬৫টি গাছ এক লাখ টাকায় কিনে নিয়েছি ইউপি মেম্বারের কাছ থেকে। স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন, আবেদ আলী, নুর হোসেন, নুরুজ্জামান অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যেই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। আমরা নিষেধ করলে ইউপি মেম্বার নানা প্রকার হুমকিধামকি দিয়েছে। গাছগুলো কেটে ফেলার কারণে সড়কটি এখন ন্যাড়া হয়ে গেছে।

অবৈধভাবে গাছ কাটার বিষয় জানতে চাইলে ইউপি মেম্বার আব্দুল করিমসহ অভিযুক্ত ৪ জন গাছ কাটার কথা স্বীকার করে জানান, রাস্তা সরকারি হলেও গাছগুলো আমরাই লাগিয়েছি এবং পরিচর্যা করেছি। এ কারনে সে গুলো আমরা কেটে ফেলেছি এবং তা বিক্রি করেও দিয়েছি। এখন পুলিশ এসে গাছ নিতে বাধা দিচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সরকারি রাস্তার গাছ অবৈধভাবে কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থানা পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছি।  

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম সাজেদুল ইসলাম জানান, কেটে ফেলা গাছের ৮০টি গুঁড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

 

বিডি-প্রতিদিন/ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow