Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:৪২
গ্রাম্য সালিশে বেত্রাঘাতে ২৩ শিক্ষার্থী আহত, অতঃপর মামলা
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
গ্রাম্য সালিশে বেত্রাঘাতে ২৩ শিক্ষার্থী আহত, অতঃপর মামলা

মুন্সীগঞ্জে নৌ-ভ্রমনে গিয়ে স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেনের অপমৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার গ্রাম্য সালিশে বেত্রাঘাতে ২৩ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। এ সময় গ্রাম্য সালিশের প্রধান পঞ্চসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার নির্দেশে ২৫ শিক্ষার্থীকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ শহরের কাছে বাগবাড়ী এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় আহত স্কুলছাত্র সুমনের বাবা তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে সালিশ প্রধান পঞ্চসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাসহ ২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বেত্রাঘাতে আহত শিক্ষার্থীরা সালিশদারদের ভয়ে নাম প্রকাশ করছে না। আহতদের মধ্যে ২৩ জনকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং আহত সুমনের(১৬) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপর আহতরা হলেন-ইয়াসিন(১৩), পায়েল আহম্মেদ(১৩) মো. রিয়েল(১৩), মো. নয়ন(১৬), মো. ইমন(১৭), মো. শিপর (১৪), মো. সৌরভ (১৪)সহ মোট ২৩ জন আহত হয়। তারা সবাই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নৌ-ভ্রমণে গিয়ে স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল বাগবাড়ী মসজিদ প্রাঙ্গণে গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশি বৈঠকে পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা নৌ-ভ্রমণে যাওয়া অপর ২৩ শিক্ষার্থীকে ২৫টি করে বেত্রাঘাত ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এতে আদি যুগের বর্বরতার শিকার হয় ২৩ শিক্ষার্থী। তাদেরকে উপস্থিত শতশত লোকের সামনে একের পর এক বেত্রাঘাত করে মারাত্মক আহত করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর একই এলাকার ২৬ শিক্ষার্থী নৌ-ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ হয় বাগবাড়ী এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত। তিন দিন পর জেলার সিরাজদিখান উপজেলার দোসরপাড়া এলাকার ইছামতী নদীতে আরাফাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে এ গ্রাম্য সালিশ বসে।

পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য এবং চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন বলে পরিচিত টিটু ও আরিফ শিক্ষার্থীদের ২৫টি করে বেত্রাঘাত করেন। বেত্রাঘাতে আহত শিক্ষার্থীদের পরে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে পঞ্চায়েত কমিটির প্রধান ও পঞ্চসার ইউপির চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, পঞ্চায়েত কমিটি শিক্ষার্থীদের বিচার করে। ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সঞ্জয় পোদ্দার বলেন, তিনি ২১ জনকে চিকিৎসা দিয়েছেন, যাদের সবাই বাগবাড়ী এলাকার কিশোর। তাদের সবার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত ওই কিশোরদেরকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক আহত করা হয়। তবে আহত কিশোরদের একজন ছাড়া অন্য কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয় বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে শুক্রবার সকালে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, এ ঘটনা জানার সাথে সাথে এলাকায় ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ইউপি চেয়্যারম্যানসহ ২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।


বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow