Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৪৫
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়ীতে শোকের মাতম
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়ীতে শোকের মাতম

সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের আল জুবাইল-ডাহারান সড়কে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় নিহত দুই সহোদর বাবুল হাওলাদার ও শহিদুল ইসলাম সিরাজের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ছয়গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তাদের বাবা-মাসহ স্বজনদের আর্তচিৎকারে আশপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। আয়ক্ষম দুই ছেলেকে হারানোর শোকে পাথর হয়ে গেছেন তারা। কেউ যেন শান্তনা দিতে পারছেন না তাদের।  

নিজের এবং পরিবারের ভাগ্য বদালাতে ১৫ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান ছয়গ্রামের হাকিম হাওলাদারের ছোট ছেলে শহিদুল ইসলাম সিরাজ। এর কয়েক বছর পর বড় ভাই বাবুলকেও সৌদি নেন শহিদুল। সৌদি আরবের দাম্মামে থেকে টাইলস্ মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে দেশে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানদের জন্য মাসে মাসে টাকা পাঠাতেন তারা।  
গত বৃহস্পতিবার সৌদি সময় সকাল ৭টায় কাজে যাওয়ার সময় দাম্মামের আল জুবাইল-ডাহারান সড়কে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাস দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে নিহত হয় বাবুল ও শহিদুল। এ খবর পাওয়ার পর পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন নিহত দুই সহোদরের বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার।  

দুই ভাইয়ের স্বপ্ন ছিলো বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়ে সন্তানদের প্রকৃত মানুষের মতো গড়ে তোলা। কিছু টাকা জমিয়ে একসাথে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিলো তাদের। এখন তাদের সন্তানদের কি হবে- তা নিয়ে চিন্তিত বাবুল ও শহিদের স্ত্রী যথাক্রমে শিরিন বেগম ও সালমা বেগম। নিহত বাবুলের দুই ছেলে ও এক মেয়ে এবং শহিদুল দুই শিশু সন্তানের জনক।  

নিহতদের সহকর্মী ও চাচাতো ভাই শিপন হাওলাদার জানিয়েছেন, সৌদিতে সব সময় পরিবারের জন্য চিন্তা করতেন তারা। তারা দুই সহোদরই খুব ভাল মানুষ ছিলেন।  

প্রিয় সন্তানকে আর কোনদিন পাবেন না, এমন পরিনতি মেনে নিয়েছেন বাবুল ও শহিদের বৃদ্ধ বাবা হাকিম হাওলাদার এবং বৃদ্ধা মা নূরজাহান বেগম। এখন তাদের একটাই দাবী, লাশ দুটো দ্রুত ফেরত পাওয়ার।  

এদিকে ওই দুর্ঘটনায় পাশ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের বাহেরঘাট গ্রামের শহিদ মুন্সির ছোট ছেলে রফিকুল ইসলাম নিহত এবং বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম গুরুতর আহত হয় বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবে তাদের সহকর্মী মো. শাহিন। গত ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসেন শাহিন। তিনি জানান, ইন্সুরেন্স জটিলতার কারনে সৌদিতে সাইফুল সু-চিকিৎসা পাচ্ছেনা। তাই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমলাতান্ত্রিক জটিতলার কারণে নিহতদের লাশ দেশে পৌঁছাতে প্রায় মাসখানেক লেগে যতে পারে বলে ধারনা করছেন তারা।  

এদিকে গণমাধ্যমের বদৌলতে সৌদিতে বরিশালের দুই পরিবারের ৩ জন নিহত এবং একজন আহত হওয়ার খবর পেলেও সরকারীভাবে এখন পর্যন্ত কোন বার্তা পাননি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। তবে হতাহতদের পরিবার আবেদন করলে তাদের সকল ধরনের সরকারী সেবা নিশ্চিত করা এবং ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।  

দুই পরিবারের ৩ জন হতাহত ছাড়াও বৃহস্পতিবারের ওই দুর্ঘটনায় ভোলার শাহাবুদ্দিন, পটুয়াখালী মো. বাচ্চু এবং পাবনার রানাও নিহত হয় বলে জানিয়েছেন তাদের সহকর্মীরা। নিহতদের লাশগুলো দ্রুত এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তাদের সহকর্মী ও স্বজনরা।  


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow