Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:০৯
প্রতীমা তৈরীতে ব্যস্ত সিরাজগঞ্জের শিল্পীরা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
প্রতীমা তৈরীতে ব্যস্ত সিরাজগঞ্জের শিল্পীরা

আর ক’দিন পরই হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর পূজাকে সামনে রেখে পুরোদমে চলছে দুর্গা প্রতিমা তৈরীর কাজ।

বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার অবকাঠামো তৈরী ও মাটি দিয়ে প্রলেপ দেয়ার কাজ চলছে। পুরুষ কারিগরের পাশাপাশি নারীরাও কাঁদামাটি দিয়ে পরম যত্নে দেবীর মুকুট, হাতের বাজু, গলার মালা, শাড়ীর পাইর, প্রিন্ট ও ঠাকুরের চুল তৈরী করছে। দিনরাত সমান তালে প্রতিমা তৈরী করে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগঞ্জের ভদ্রঘাট ইউনিয়নের পালপাড়া প্রতিমা কারিগররা। তবে প্রতীমা তৈরীতে যে পরিশ্রম আর খরচ হয় কিন্তু বিক্রি করে বেশি লাভ হয় না। এ জন্য সরকারের কাছে সহায়তার দাবি করেছেন প্রতীমা কারিগররা।  

সরেজমিনে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের বাজার ভদ্রঘাট পালপাড়া একটি গ্রাম। এ গ্রামের প্রায় ৩০-৪০টি হিন্দু পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই প্রতীমা তৈরীর কারিগর। নারী-পুরুষ সকলেই প্রতীমা তৈরীর কাজ করে। প্রতীমা তৈরী করেই চলে এদের সংসার। সারা বছর এদের কদর না থাকলেও পূজার আগে এদের কদর বেড়ে যায়। পূজার একমাস আগ থেকে শুরু হয় প্রতীমা তৈরীর কাজ। এবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এখানে প্রতিমা তৈরীর ধুম পড়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি চলছে প্রতীমা তৈরীর কাজ।  

গ্রামের বধুরা নিপুন হাতে পরম যত্নে দেবীর মুকুট, হাতের বাজু, গলার মালা, শাড়ীর পাইর, প্রিন্ট, ঠাকুরের চুল ও মাথা তৈরী করছে। আর পুরুষেরা সেগুলো সঠিকভাবে লাগিয়ে মাটির প্রলেপ লাগিয়ে দিচ্ছে। প্রতিবছর দুর্গাপূজায় এ গ্রামের তৈরী প্রতীমা সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের বগুড়া, নাটোর ও জামালপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হয়ে থাকে।  

তবে পরিবারের সকলেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রতীমা তৈরী করলেও বেশী খরচের কারণে মুনাফা অর্জন করতে পারছে না এসব কারিগররা। কঠোর পরিশ্রম করেও মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের। তাদের দাবি সরকার যদি স্বল্পসুদে বা আর্থিক সহায়তা করে তবে এ শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি তাদের পরিবারের স্বচ্ছলতাও আসবে।  এদিকে এবছর জেলার প্রায় ৫ শত মন্ডপে পূজা উদযাপন হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।  

মৃৎশিল্পী দীপ্ত রানী ও বিকৃষ্ণা রানী পাল জানান,  পুরুষদের সহযোগিতা করতেই প্রতীমা তৈরীর কাজ করছি। তবে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে না। সরকার যদি সহায়তা করতো তবে সংসার স্বচ্ছলভাবে চলতো।  

মৃৎশিল্পী শ্রীকান্ত পাল জানান,  একদিকে সুতা, বাশ-কাঠের দাম বৃদ্ধি অন্যদিকে পরিবারের সকলকে নিয়েই কাজ করি। এতে যে পরিশ্রম হয় সে পরিমাণ মূল্য আমরা পাই না।  সরকার যদি সহায়তা করতো তবে এ শিল্পটি আরও উন্নত করা যেতো।  

সিরাজগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন কমিটির  সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার কানু জানান, দুর্গা প্রতীমা যারা তৈরী করেন তাদের কারখানার অবস্থা করুণ, এসব কারিগররা দারিদ্রসীমার নিচে বাস করেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহায়তার দাবি করেছেন পূজা উদযাপন কমিটির এই নেতা।  


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow