Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:৫৩
শ্রেণিকক্ষে পানির মধ্যে চলছে পাঠদান
রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর:
শ্রেণিকক্ষে পানির মধ্যে চলছে পাঠদান

ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাস দেখলে অনেকে বলতে পারেন বন্যা। কিন্তু তা নয়।

বৃষ্টিপাতেই তলিয়ে যায়।

শুক্রবার বিকেল হতে টানা বর্ষণে ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পানি। আর পানির মধ্যেই চলে পাঠদান। এ কারণে শিক্ষার্থীদের অনেকে পানিতে অসুস্থ হবার ভয়ে ক্লাসে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এরমধ্যে যারা আসে তারা সর্দি, হাচি-কাশিসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যম্পাসে আরেকটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে। পানিতে ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাইমারী স্কুলের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়ায় স্কুলে আসতে চায় না। এতে শিক্ষার্থীরা স্কুলে অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। এ দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদও কোন পদক্ষেপ বা সহযোগিতা আজও করেনি।

ঝাড়বাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মায়িশা আক্তার জানান, বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ে আসতে পারিনা, পোশাক বইপত্র ভিজে যায়। পচা পানিতে হাত-পা চুলকায় পরে তা ঘা হয়।

ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র মোঃ কাওসার হোসেন জানান, পানিতে ভেসে আসা বিভিন্ন ময়লার দুর্গন্ধ আর পোকা মাকড়ের ভয়ে বিদ্যালয়ে পড়াশুনায় মন বসে না। তা ছাড়া মাঠে পানি জমে থাকায় আমাদের খেলাধুলার অসুবিধা হয়।

ঝাড়বাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ পারভীন ঝর্না বলেন, বৃষ্টির সময় স্কুল ক্যাম্পাসসহ ক্লাস রুম পানিতে তলিয়ে যায়। ক্লাস রুমের টিনের চালা পুরানো হওয়ায় ভিতরে পানি পড়ে। ক্লাস রুমে পানিতে ক্লাশ নিলে শিশুদের বইখাতা পানিতে নষ্ট হয় আবার শিক্ষার্থীদের সর্দি, হাচি-কাশিসহ নানান রোগ দেখা দেয়। পানি শুকিয়ে গেলেও বিকট গন্ধ হয়। এ অবস্থায় স্কুল বন্ধও রাখা যায়না আবার এতে স্কুলে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে যায়।

ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, বর্ষার সময় ছাড়াও সামান্য বৃষ্টিতে স্কুল ক্যম্পাস পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পানি ক্লাশরুমে ঢুকে পড়ে। এতে লেখাপড়া মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। মাটি ভরাট ছাড়াও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মান করা সম্ভব হলে এ থেকে নিস্কৃতি পাওয়া যেতে পারে।

বিডি-প্রতিদিন/ ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow