Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:১০
মৃত ব্যক্তিদের হাজিরা দিতে পুলিশের নোটিশ
এম এ শাহীন, সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে
মৃত ব্যক্তিদের হাজিরা দিতে পুলিশের নোটিশ

সিদ্ধিরগঞ্জে মৃত ব্যক্তিদের থানায় হাজির হতে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের মাদানী নগর এলাকার সিদ্ধিরগঞ্জ মৌজার ১৪২ নং দাগের ৪৯ শতাংশ বিচারধীন মামলার মীমাংসার জন্য এ নোটিশ প্রদান করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাধারণ ডায়েরি নং-১৩৬০, তাং- ২৯-৯-২০১৬ ইং তারিখ সূত্রে ওই নোটিশ দেয়া হয়েছে ২ জন মৃত ব্যক্তিসহ চারজনের নামে।  

নোটিশে জমির মালিক উল্লেখ করে নোটিশ দেয়া হয়েছে জুয়েল, সোহেল, রিপন, মিজানুর রহমান, মিনার হোসেন ও হাফিজুর রহমানকে। এর মধ্যে ১৯৮৮ সালে ১৪ বছর বয়সে পানিতে ডুবে সোহেল মারা যায়। নোটিশে সোহেলের বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ৩৫। সোহেলের বাবা মকবুল আহম্মেদ মৃত্যুবরণ করলেও তাকেও জীবিত উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রিপন মারা গেলেও তাকে জীবিত উল্লেখ করে নোটিশ প্রদান করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জের  পাইনাদী মধ্যপাড়া স্কুল রোড এলাকার মৃত নেকবর আলীর ছেলে আব্দুল জলিল নামে এক ভূমি প্রতারকের মৃত ব্যক্তিদের জীবিত উল্লেখ করে মিথ্যা ও ভুল তথ্য দেয়ার কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে এ নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশ প্রাপ্তদের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার জসিম উদ্দিনের সামনে সোমবার রাতে উপস্থিত থাকার জন্য মৌখিকভাবে জানানো হয়। কিন্তু সোমবার রাতে ৬ ব্যক্তির মধ্যে চার ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। বাকি দুজন উপস্থিত না হওয়ায় প্রশ্ন তোলেন এস আই জসিম উদ্দিন। বহু আগেই বাকি দুই ব্যক্তি মৃত্যুবরণের কথা উপস্থিত লোকজন উল্লেখ করলে হতবাক হয়ে পড়েন খোদ নোটিশ দাতা এসআই জসিম উদ্দিন। এসময় মিথ্যা তথ্যদাতা আব্দুল জলিল পুলিশ কর্মকর্তা ও উপস্থিত লোকদের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।  

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জসিম উদ্দিন জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের  পাইনাদী মধ্যপাড়া স্কুল রোড এলাকার মৃত নেকবর আলীর ছেলে আব্দুল জলিলের দায়ের করা জিডির প্রেক্ষিতে এ নোটিশ দিয়েছি। মিথ্যা ও ভুল তথ্যদিয়ে মৃত ব্যক্তিদের জীবিত উল্লেখ করে ওই জিডি করেছিল আব্দুল জলিল। এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে সদুত্তর দিতে পারেননি। এ ব্যাপারে আব্দুল জলিল জানায়, আমিতো অনেকগুলো মামলা করেছি। কে জীবিত কে মৃত এতকিছু মনে রাখতে পারি নাই।  

এলাকাবাসী জানায়, আব্দুল জলিল একজন মামলাবাজ ও ভূমি প্রতারক। আব্দুল জলিল ওই জমির ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা দাবি করে কালা চাঁন মিয়া গংদের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ০৪/২০১০ মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় রায় তার পক্ষে না যাওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতে আপিল (নং-৪৬৬/১০) করেন। কিন্তু তিনি ঐ জমির মালিকানা দাবি করে ওই জমি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতে জিডি করে। যার প্রেক্ষিতে প্রশাসন মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নোটিশ প্রদান করে। মৃত ব্যক্তিদের জীবিত উল্লেখ করে নোটিশ প্রদানের ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য।  

 

বিডি-প্রতিদিন/ ০৪ অক্টোবর, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow