Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০১:৪১
কাপ্তাই হ্রদে ভবন ধসে চারজনের মৃত্যু, মালিকের বিরুদ্ধে মামলা
ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি:
কাপ্তাই হ্রদে ভবন ধসে চারজনের মৃত্যু, মালিকের বিরুদ্ধে মামলা

রাঙামাটি শহরে কাপ্তাই হ্রদে ধসে পড়া ভবন থেকে বাবা-মেয়েসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন- মো. জাহিদ ড্রাইভার (৪০) ও তার মেয়ে পিংকি আক্তার (১৩) এবং উম্মে হাবিবা (২২) ও সামাদ (১২)।

বিকাল ৫টার দিকে শহরের সরকারি মহিলা কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে আরও একজন। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে কাপ্তাই নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা।

এ ঘটনায় রাঙামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বাড়ির মালিক টিটুর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে রাঙামাটির কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান রাঙামাটি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. সাফিউল সারোয়ার।

অন্যদিকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেল ৫টার দিকে টিনের ছাদ দেওয়া ভবনটিকে পানিতে হেলে যেতে দেখা যায়। ভবনটি হেলে যাওয়ার পরপর দু-তিনজন বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু কাপ্তাই  হ্রদের পানিতে ভবনের অর্ধেক অংশ ডুবে যাওয়ায় ঘর থেকে বের হতে পারেনি চারটি পরিবারের কমপক্ষে ৮জন মানুষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও রেড ক্রিসেন্টসহ স্থানীয়রা। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে ভবনের কিছু অংশ ভেঙে উদ্ধার করা হয় মো. জাহিদ ড্রাইভার (৪০) ও তার মেয়ে পিংকি আক্তার (১৩) এবং উম্মে হাবিবা (২২) ও সামাদকে। উদ্ধারের পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে  রাঙামাটি অতিরিক্ত সিভিল সার্জন রুহী বনানী জানান, চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু এর আগেই পানিতে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী এলাকায় দীর্ঘ বছরের পুরো ভবনটিতে বসবাস করতো চারটি পরিবার। সম্প্রতি কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়ে যাওয়ায় ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে ভবনটি। কিন্তু তারপরও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছিল তারা। বিকার ৫টার দিকে হঠাৎ ভবনটির পাশের একটি নারিকেল গাছ পানিতে ধসে পড়ে। এর পরপরই ভবনটিও ধসে পড়ে। ভবনের নিচের তলায় এখন পর্যন্ত একজন আটকা আছে।
 
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে যান রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মালিক সামস উদ্দিন মোহাম্মদ মঈন, রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সফিউল সারোয়ার, রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফাসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ।

রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মালিক সামস উদ্দিন মোহাম্মদ মঈন জানান , ঘটনাস্থল থেকে চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পানির নিচে ভবনের ভিতরে আরও মানুষ থাকতে পারে। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ভবনের সব মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ উদ্ধার কাজ অব্যাহত থাকবে।

অভিযোগ উঠেছে, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক দখল করে পানির ওপর দোতলাবিশিষ্ট পাকা বাড়িটি নির্মাণ করেন স্থানীয় ঠিকাদার টিটু। এরপর একাধিক পরিবারকে ভাড়া দেন বাড়িটিতে। দীর্ঘ বছরের পুরো বাড়িটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তারপরও ওই বাড়িতে বসবাস করতো চারটি পরিবার।


বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow