Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:৫৪
বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট চরমে
শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট
বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট চরমে

বাগেরহাটে সদর হাসপাতালে নজিরবিহীন চিকিৎসক সংকটের কারণে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রোগীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও চিকিৎসকদের অভাবে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অনেক সময় রোগীদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে ক্লিনিক অথবা অন্য জেলার হাসপাতালে। ফলে অসহায়, দরিদ্র, অসুস্থ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি অনাকাঙ্খিত মৃত্যু ও ভোগান্তির হার বাড়ছে। জেলার প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রের এ দুরবস্থায় এখানে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

সংকটের কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে আলোচিত হলেও আজও প্রতিকার মেলেনি। সম্প্রতি এ দুরাবস্থা আরও বেড়েছে। হাসপাতালটি এখন আর রোগী ধারণের অবস্থায় নেই। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গুরুতর রোগীরা অর্থোপেডিক, মেডিসিন, সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া, রেডিওলজি, ইউনানি, ডেন্টাল ও প্যাথলজির, চক্ষু ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভাবের কারণে চিকিৎসা নিতে পারছেন না।

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ ওঠছে। রোগীরা বলেন, গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. সাহানা রাজ্জাক রোগী, তাদের স্বজন ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে প্রতিনিয়ত অশোভন আচরণ করেন। প্রতিদিনই দেরি করে আসেন। তার এই দুর্ব্যবহারের কারণে অধিকাংশ প্রসূতি বেসরকারি  ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হন। বৃহস্পতিবার হাসপাতালের বারান্দায় কথা হয় চিকিৎসা নিতে আসা প্রসূতি ছবি ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ডা. সাহানা রাজ্জাকের কাছে প্রথমবার চিকিৎসা নিতে এসেছিলাম তখন। রুমে ঢুকতেই তিনি বলেন বাচ্চা নিয়ে আসছেন কেনো? বাসায় রেখে আসতে পারলেন না?- বলেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন।

রোগীরাই নন, হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক, নার্স ও আয়ারাও ডা. সাহানার আচরণ ও ব্যবহারে অসন্তোষের কথা জানান। তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. সাহানা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ২৯টি পদের মধ্যে ১৯টি শূন্য। কনসালট্যান্টের ১২টি পদের মধ্যে ৯টিই শূন্য। এখানে চতুর্থ শ্রেণীর ৬৫টি পদের মধ্যে ৪৪টি শূন্য। অন্যান্য পদগুলোরও একই অবস্থা।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন অরুন কুমার মণ্ডল বলেন, সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সময়ে এসব বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। অন্য উপজেলা থেকে মেডিকেল অফিসারদের এনে রোগীদের সেবার জায়গা ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

ডা. সাহানা রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে অরুন কুমার মণ্ডল বলেন, তাকে একাধিবার সতর্ক করা হয়েছে।  

 

বিডি প্রতিদিন/৬ অক্টোবর, ২০১৬/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow