Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:১৮
আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রভাষকের নামে হতদরিদ্রের কার্ড
আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও:
আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রভাষকের নামে হতদরিদ্রের কার্ড

হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি দরে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে হচ্ছে তার উল্টো। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রের তালিকায় আওয়ামী লীগ নেতারও নাম আছে। শুধু ওই নেতাই নন, তা পরিবারের সবার নামেই হতদরিদ্রের কার্ড আছে। হতদরিদ্রের কার্ড আছে রানীশংকৈল উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা প্রভাষক সফিকুল আলমের নামও। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনার ঝড় উঠেছে।

মোহাম্মদপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, তার স্ত্রী দিলু আরা (কার্ড নং-১৬২), তার ৪ ভাই-রবিউল ইসলাম (কার্ড নং-১৪১), রেজাউল করিম (কার্ড নং-১৫৩), আখতার আলম (কার্ড নং-১৫৬), হোসেন আলী (কার্ড নং-১৬৩)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই আওয়ামী লীগ নেতা সরকারের বরাদ্ধকৃত টিআর কাবিখা থেকে সকল প্রকার অনুদান নিজের নামসহ পরিবারের সদস্যদের নামে উত্তোলন করেন। এছাড়াও তার পরিবারের সকল সদস্য ঢাকায় থাকার পরও বিভিন্ন সময় তাদের নামে এসব নেন তিনি।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের বলেন, এইসব অনুদান তুলে আমি স্থানীয় একটি এতিমখানায় দান করি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৮নং নন্দুয়ার ইউনিয়নে বিধি মোতাবেক হতদরিদ্রের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য কমিটি রয়েছে। সে কমিটির ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি ইয়াসিন আলীর মনোনীত প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ নেতা প্রভাষক সফিকুল আলম। এ কমিটি ১৪২০ জনের নামের তালিকা প্রস্তুত করেছে সে তালিকায় প্রভাষক সফিকুল আলমের নামও রয়েছে। তার কার্ড নং-১০০৮। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।

ইউপি চেয়ারম্যান আবু সুলতান বলেন, আমি এ কমিটির শুধুমাত্র একজন সদস্য। আমার এখানে তেমন কোনো ক্ষমতা নেই। আমিও শুনেছি প্রভাষক সফিকুল আলমের নাম হতদরিদ্রদের তালিকায় রয়েছে।  

হতদরিদ্রদের তালিকা প্রস্তুত কমিটির সচিব ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সোহেলের সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, তালিকা ছাড়া সঠিক তথ্য দেয়া যাচ্ছে না।

হতদরিদ্রদের তালিকায় প্রভাবশালীদের নাম থাকা প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মো. নাহিদ হাসান বলেন, রবিবার কমিটির মিটিং ডেকে সফিকুল আলমের নাম প্রত্যহার করা হবে।

প্রভাষক সফিকুল আলম বলেন, কে বা কারা ষড়যন্ত্র করে আমাকে হেয়-প্রতিপন্ন করার জন্য এ কাজটি করেছে।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি অধ্যাপক ইয়াছিন আলী বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। কার্ডটি বাতিল করার ব্যাপারে তাকে আমি বলেছি।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বলেন, আমি অভিযোগ সম্পর্কে শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রভাবশালীদের কার্ড বাতিল করা হবে।


বিডি প্রতিদিন/১০ অক্টোবর, ২০১৬/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow