Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:০০
মাগুরায় ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়ম
মাগুরা প্রতিনিধি:
মাগুরায় ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়ম

বড়লোক শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো তালিকায় কমপক্ষে ৫০ ভাগ ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করা হচ্ছে মাগুরা সদর উপজেলার ৩ নং কুছুন্দী ইউনিয়নে। আর এ কারণে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণের অনিয়ম নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ওই ইউনিয়নের ভুক্তভোগিরা।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থেকে শুরু করে সরকার দলীয় নেতারা পর্যন্ত বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়েছেন।  

কুছুন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মান্নান, রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাসসহ প্রত্যেকে জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম মোল্লা সম্পূর্ণ একক কর্তৃত্বে  হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণের যে তালিকা করেছেন তার মধ্যে ৫০ শতাংশই ধনী ব্যক্তি ও ভুয়া নাম ঠিকানা অর্ন্তভুক্ত।  

চেয়ারম্যানের একক কর্তৃত্বে করা ২৩৫ জনের তালিকার ৬৮, ৬৯, ৭৫, ৭৬ ক্রমিক নম্বরে তার বড়লোক চাচাতো শ্যালক রিয়াজুল ইসলাম, তার স্ত্রী সাদিয়া পারভিন, অপর শ্যালক রানা ও তার স্ত্রী পলি বেগমসহ কমপক্ষে ৬০ জন ধনী আত্মীয় স্বজনের নাম আছে।  

তালিকা করার বিষয়ে মিঠুন মজুমদার, আব্দুল মান্নানসহ কুছুন্দি ইউনিয়নের ১৩ জন সদস্যের কেউই জানেন না বলে জানিয়েছেন। এটি চেয়ারম্যান এককভাবে করেছেন বলে তারা দাবি করেন। এই তালিকায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষ্ণপুর গ্রামের ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ ভাদুড়ী ছাড়া আর কারো নাম নেই। একই অবস্থা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের। সেখানে শৈলডুবি ও খর্দ কুছুন্দী গ্রামের কোন হতদরিদ্রের নাম নেই। বরং ইউনিয়নের বাইরে পৌরসভার অন্তরর্ভুক্ত লক্ষিকান্দর ও বারাশিয়া গ্রামের ১০ জনকে ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব ভুয়া তালিকা ভুক্ত নামধারিদের চাল চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল হিমন কালো বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।  

ইউনিয়নের নির্ধারিত ডিলার আব্দুর রহিম এ বিষয়ে বলেন, ‘আমার কাছে যে তালিকা দেয়া হয়েছে সে অনুযায়ী যথাযথভাবে চাল বিতরণ করছি। এ বিষয়ে আমার আর কিছু জানা নেই’।

অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল হিমন বলেন, ‘ তালিকা নিয়ে একটু সমস্যা ছিল। পরে সেটি সমাধান করে ফেলেছি’।

সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল করিম বলেন, ‘এ ধরনের কোন লিখিত অভিযোগ আমাদের হাতে আসেনি। এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।  

প্রসঙ্গত, জেলায় মোট ৩৬ হাজার ৬শ’ ৪০ পরিবার ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন। জেলায় ৬৭ জন ডিলারের মাধ্যমে এ চাল বিক্রি করা হচ্ছে।

 

বিডি প্রতিদিন/ ১১ অক্টোবর ২০১৬/হিমেল   

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow