Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:২১
মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবি; নিখোঁজ ৪ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার
নরসিংদী প্রতিনিধি
মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবি; নিখোঁজ ৪ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার
নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় ৪ গরু ব্যবসায়ীর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের পর স্বজনদের আর্তনাদে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে

নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির প্রায় দুইদিন পর নিখোঁজ ৪ গরু ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলের প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে মেঘনা নদীর নিলক্ষা এলাকা থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঝড়ো বাতাসে মেঘনা নদীর ভাটখোলা পয়েন্টে ট্রলারটি ডুবে গেলে ১২টি গরুসহ চার ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন।
তারা হলেন আনোয়ার ফারাজি (৪৫), আবদুল হক (৩৫), ফরিদ মিয়া (৪৫) ও খলিল মিয়া (৩৫)।

বুধবার প্রচণ্ড স্রোত আর ঢেউয়ের কারণে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সারাদিন তল্লাশি চালিয়েও তাদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিলক্ষা এলাকায় লাশ ফুলে ভেসে উঠলে টহলরত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদেরকে উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। এসময় স্বজনদের আর্তনাদে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।

গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঝড়ের কবলে পড়ে রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের বেলোয়ারচর আনন্দবাজারের পাশ্ববর্তী মেঘনা নদীতে ট্রলারটি ডুবে যায়।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানান, সন্ধ্যায় বি-বাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাইশমৌজা গরুর বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা মাঝি গোলাম মিয়ার ট্রলারযোগে রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি আসছিলেন। এসময় বেলোয়ারচর আনন্দবাজারের পাশ্ববর্তী মেঘনা নদীতে ট্রলারটি ঝড়ের কবলে পড়ে। আতঙ্কে যাত্রীদের ছুটাছুটিতে ট্রলারটি কাত হয়ে ডুবে যায়। ওই সময় ট্রলারে থাকা অধিকাংশ গরু ব্যবসায়ীরা সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ৪ জন নিখোঁজ হন। ট্রলারে থাকা ১৫টি গরু ও মহিষ পানিতে ডুবে মারা যায়।

প্রথমে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। পরে সকালে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ৬ সদস্যের ডুবুরি দল নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।

দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারটিতে ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষ ও ২০টি গরু ও মহিষ ছিল বলেও জানান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা।

সকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন, উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন ও রায়পুরা থানা ওসি (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিখোঁজদের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা ও ২০ কেজি চাল অনুদান দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

ফায়ার সার্ভিসের উপ মহা-ব্যবস্থাপক কাজী নাজমুজ্জামান জানান, সকালে নিলক্ষাসহ কাছাকাছি বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে নিহতদের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
 
বিডি প্রতিদিন/১৩ অক্টোবর ২০১৬/ এনায়েত করিম

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow