Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:৫০
বান্দরবানে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার মহোৎসব
বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার মহোৎসব

বান্দরবান জেলা শহরের পাশে রোয়াংছড়ি উপজেলার ছাইংগ্যা দানেশ পাড়ায় প্রকাশ্যে দিবালোকে ড্রোজার দিয়ে এবিএম ইটভাটার মাটি যোগান দিতে বিশাল কয়েকটি পাহাড় কেটে সাবাড় করে চলেছে এক  আওয়ামী লীগ নেতা। জেলার শহরের সংন্নিকটে প্রকাশ্যে ‘এবিএম’ নামে ইটভাটার মালিক গত ১৫দিন ধরে ড্রোজার দিয়ে পাহাড় কাটার মহোৎসব চালিয়ে গেলেও জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং থানার পুলিশের রহস্যজনক নিরব ভূমিকায় জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।


স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এবিএম’ ইটভাটার মালিক মোঃ মনিরুজ্জামান মিলন দিবালোকে পাহাড় কেটে চললেও প্রশাসনের নিবর ভূমিকার কারণে ছাইংগ্যা দানেশ পাড়া ও কালাঘাটাসহ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটা ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। এতে প্রতিবছর বেড়ে চলছে পাহাড় ধসে প্রাণহানিসহ ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয়ের ঘটনা। এছাড়াও প্রতিদিন ব্যাপকহারে পাহাড় কাটার ফলে জেলা শহরের পাহাড়গুলো প্রায় বিলীনের পথে রয়েছে।
 
স্থানীয়রা আরো জানান, ছাইংগ্যায় সরকারী বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে এবিএম’ ইটভাটাটি। এবিএম ইটভাটার নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, লাইন্সেনসহ নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। এভাবেই অবৈধ পন্থায় বিগত ৭/৮বছর যাবত চলছে উক্ত এবিএম ইটভাটার কাজ।

এদিকে ছাইংগ্যায় অবৈধভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধংস করার বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে এক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসন থেকে এখনো পর্যন্ত কোন উদ্যোগই গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে ইতোমধ্যেই বিশাল একটি পাহাড়ের অর্ধেকাংশ সাবাড় করে ফেলেছে এবিএম ইটভাটার মালিক। উক্ত ইটভাটার মালিকের অবৈধ কর্মকান্ড এবং প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় এলাকার লোকজন ক্ষুদ্ধ হয়ে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

ছাইংগ্যা এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, জেলায় প্রশাসন বলতে কিছুই নেই বলে মনে হচ্ছে। প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা চললেও কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছেন না সরকারি কর্মকর্তারা।  

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে এবিএম ইটভাটায় পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করার সময় পাহাড় ধসে একজন লোক মাটি চাপা পড়ে মারা যায় এবং কয়েকজন আহত হয়। এবারো ঐসময়ের মতো প্রাণহাণির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

গত রবিবার সকালে রোয়ায়ংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং তার কাছে পাহাড় কাটার বিয়য়ে জানতে চাইলে অদৃশ্য কারণে তিনি কিছুই দেখতে পায়নি বলে সাংবাদিকদের জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিচালক মাসুদ করিম বলেন, পাহাড় কাটা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরিবেশ বিধ্বংশী একটি কাজ, তাই কেউ যদি অবৈধভাবে পাহাড় কাটা হলে খুব শীঘ্রই সরেজমিনে পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

এব্যপারে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, ছাইংগ্যা এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার বিষয়টি বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি খুব  দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিডি-প্রতিদিন/১৩ অক্টোবর ২০১৬/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow