Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:৩৫
টাকার বিনিময়ে মাদারীপুরে চালের কার্ড বিতরণ
বেলাল রিজভী, মাদারীপুর
টাকার বিনিময়ে মাদারীপুরে চালের কার্ড বিতরণ
ফাইল ছবি

সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের শুরুতেই নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে টাকার বিনিময়ে কার্ড বিতরণ, স্বজনপ্রীতি, মাপে কম দেয়া, এক মাসের চাল দিয়ে কার্ডে দুই মাস এন্ট্রি করা নিয়ে কার্ডধারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে এ সব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলার ৬০ ইউনিয়নের মধ্যে বেশ কিছু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বাররা দরিদ্রদের পাশাপাশি নিকটাত্মীয়দের মধ্যেও কার্ড বিতরণ করছেন। অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের অনেকেও দরিদ্র কার্ড পেয়েছেন। এমন অভিযোগ মাদারীপুর সদর ও কালকিনিতে বেশি। রাজৈর ও শিবচরে ডিলাররা চাল বিক্রির সময় মাপে কম দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সদর ও কালকিনির ইউনিয়নগুলোর অবস্থা একই রকম। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ কালকিনি নবগ্রাম ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডে সাড়ে ৯০০ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রত্যেক কার্ডধারীর কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ২০০ টাকা করে। ৯৫০ কার্ডের বিনিময়ে আদায় করা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ ইউনিয়নে ডিলাররা সেপ্টেম্বর মাসের চাল বিতরণকালে প্রতিকার্ডে ২/৩ কেজি করে চাল মাপে কম দিচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।

নবগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর চলবল এলাকার সুধন্য বাড়ৈ বলেন, ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার অরুণ মল্লিক কার্ড দেয়ার সময় আমার কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়েছেন। শুধু আমার একার কাছ থেকেই নয়, সবার কাছ থেকে মেম্বার ও মহিলা মেম্বাররা ২০০ টাকা করে নিয়েছে। ডিলারের কাছ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে গত মাসে ৩০ কেজি চাল এনেছি, বাড়ি এসে মেপে দেখি ২৭ কেজি।

এ এলাকার উত্তম সরকার, কেশব ঢালী, সুশীল বাড়ৈ, মনিন্দ্র বাড়ৈ, সুখদেব বাড়ৈসহ অনেকের কাছ থেকে একই অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের প্রতি মাসের ৩০ কেজি চালের মধ্যে ৩/৪ কেজি করে ওজনে কম দিয়েছে ডিলাররা। এমন অভিযোগ এলাকার শতশত হতদরিদ্র পরিবারের। বহু কার্ডে এক মাসের চাল দিয়ে দুই মাসের চাল বিতরণ দেখানো হয়েছে।  

খোয়াজপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার নিলুফা বেগম বলেন, আমি অনিয়ম দেখলেই প্রতিবাদ করি। চেয়ারম্যানের কাছে জানাই। কিন্তু তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি।

খোয়াজপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মুন্সী চাল বিতরণে অনিয়ম হচ্ছে না দাবি করে বলেন, হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণে কোনও অনিয়ম আমার এলাকায় এখনও হয়নি। আমার অজান্তে যদি কোথাও এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে  আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. তানভীর আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

বিডি প্রতিদিন/১৪ অক্টোবর, ২০১৬/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow