Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:২৪
সমাজ পরিবর্তনে 'মুরব্বী ছাউনি লালঘর'
রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর
সমাজ পরিবর্তনে 'মুরব্বী ছাউনি লালঘর'

মাদক ইভটিজিং, ছিনতাই ও সন্ত্রাীং কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ও বিপদগামী সন্তানদের রুখতে এবং এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠায় গড়ে তোলা হয় 'মুরব্বী ছাউনি লালঘর'। এখন অনেকের কাছে এটা মডেল হয়ে দাড়িয়েছে।

 

মুরব্বী ছাউনি গঠনের আগে প্রকাশ্যে রামনগড় এলাকায় মাদক সেবন, দিনদুপুরে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও স্কুল কলেজগামী মেয়েদের ইভটিজিং করা হতো। এসব অপকর্ম ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে এলাকাকে মুক্ত করতে মদিনা মসজিদের পেশ ইমাম ও মুসল্লীদের নিয়ে আলহাজ সাদেক মিয়া পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং পরে পুলিশ ও র‌্যাবসহ প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেন।  

এরপর মাদকের ছোবল ও সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর রামনগরে গড়ে তোলা হয় মুরব্বী ছাউনি লালঘর।  

মুরব্বী ছাউনি লালঘর উদ্বোধনের সময় সাবেক পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, কোতয়ালী থানার ওসিসহ র‌্যাব এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাগন। এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী অরাজনৈতিক  সংগঠন। লালঘরের আওতাধীন রয়েছে নুরুন্নবী জামে মসজিদ, মদিনা মসজিদসহ লেবুর মোড়ের প্রায় এক হাজার বাড়ি। পারিবারিক কলহ, ঝগড়া বিবাদ, পাওনা টাকা আদায়সহ বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যা সমাধান করা হয় এখানে।  
   
লালঘরের সদস্যরা সবাই ৪০ থেকে ৯০ বছর পর্যন্ত বয়সী। এখানে কোন যুবক সদস্য নেই। ২১ সদস্য বিশিষ্ট মুরব্বী ছাউনির একটি কমিটি এবং শক্তিশালী উপদেষ্টা মণ্ডলিও রয়েছে। এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ শতাধিক। সংগঠনের সদস্য রায়েছেন প্রভাষক, ডাক্তার, পুলিশ, শিক্ষক, দিনমজুর, ভ্যান চালকসহ সর্বস্তরের এলাকাবাসী। এখানে যারা সদস্য তারা সবাই কারো পিতা বা অভিভাবক। এ সামাজিক অপরাধ নির্মূল কার্যক্রমে পুলিশ সাহায্য সহযোগিতা করছেন বলে জানান আলহাজ মো. সাদেক মিয়া।  

মুরব্বী ছাউনি লালঘর এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ মো. সাদেক মিয়া বলেন, আমরা সমাজে বাস করি। এ সমাজকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের সন্তানরা মাদক সেবন করে সমাজকে অস্থির করে তুলবে আর আমরা পিতা হয়ে দেখবো। তাহলে মসজিদ-মন্দিরে সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করেও শান্তি মিলবে না। মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে না পারলে অবশ্যই আমরা ব্যর্থ পিতা বা অভিভাবক। তাই গড়ে তোলা হয় মুরব্বী ছাউনি লাল লাঠি লালঘর।

আলহাজ সাদেক মিয়া আরও জানান, রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে এলাকার মুরব্বীরা পালাক্রমে ডিউটি দেন তারা এক হাতে টর্চ লাইট অন্যহাতে লাল লাঠি এবং মুখে বাঁশি নিয়ে এলাকা চুষে বেড়ায়। কোন স্থানে বা ঝোঁপের মধ্যে নির্জন স্থানে কেউ মাদক সেবন করছে কি না বা চুরি, ছিনতাই বা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে কি না তা তদারকি করা।  

ডিউটিরতদের হাতে ধরা পরলে প্রথমে তাকে উপদেশ দিয়ে অসামাজিক কাজ থেকে দুরে থাকার জন্য ভালোভাবে বোঝানো হয়। তার হাতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। ২য় বার ধরা পড়লে তার অভিভাবককে তলব করা হয়। তৃতীয় বার ধরা পড়লে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এলাকায় এ শাসন থাকার ফলে শতকারা ৮০ ভাগ যুবক ভালো পথে ফিরে আসছে।  

 

বিডি-প্রতিদিন/ ১৫ অক্টোবর, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow