Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:৩৭
তারায় তারায় মিলেছে রং-বেরংয়ের ফানুস
উত্তম কুমার হাওলাদার, কলাপাড়া
তারায় তারায় মিলেছে রং-বেরংয়ের ফানুস

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় রাতের আকাশে তাকালেই মনে হবে রং-বেরংয়ের অসংখ্য তারার মেলা। যেখান থেকে মাঝে মাঝে দুই একটি তারা মাটিতেও খসে পড়ছে।

ওই সব তারা কুড়াতেও ব্যস্ত দুরন্ত বালকের দল। আসলে ওইগুলো তারা নয়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রবারণা উৎসবে পূর্ণিমায় আকাশের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়া রং-বেরংয়ের ফানুস।  

সমুদ্র উপকূলীয় পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটাসহ কলাপাড়া উপজেলার আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের ১৭টি রাখাইন পল্লীতে গত তিনদিন ধরে সন্ধ্যার পরে আকাশে একযোগে ফানুস উড়িয়ে এ প্রবারণা উৎসব পালন করে। এসময় প্রতিটি রাখাইন পল্লীর ঘরে বিরাজ করে উৎসবের আমোজ। গৌতম বুদ্ধ স্মরণে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের ছিল নাচ-গান, বয়ানও আতশবাজি। বিহারগুলোতে করা হয়েছে আলোকসজ্জ্বা।  

রাখাইন নর-নারী, শিশু, যুবক-যুবতী,আবাল-বৃদ্ধারা নতুন পোশাক ও উন্নতমানের খাবার নিয়ে বিহারে গমন করেন। দিনভর সকল পেশাজীবী, নানা ধর্মের লোকজনকে আথিতেয়তায় পরিবেশন করছেন বিন্নি চালের তৈরি রাখাইন ঐতিহ্যের হরেক রকম পিঠা-পুলি। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ প্রবারণা উৎসব সোমবার রাতে শেষ হয়।

গোরা আমখোলা পাড়ার রাখাইন যুবক তেননান জানান, এ পূর্ণিমায় গৌতম বুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইনরা তাদের ধর্মযাজককে মনে রাখতে প্রবারণা উৎসবে মিলিত হয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে থাকে। বৌদ্ধ ধর্ম অনুযায়ী আষাঢ়ী পূর্ণিমাতে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাব্রত শুরু হয়ে আশ্বিনের এ পূর্ণিমাতে শেষ হয়। এ সময় বিহারগুলোতে তিন দিন গৌতম বুদ্ধের স্মরণে নানা ধর্মীয় কার্য সম্পাদন ও  রাতে আকাশ আলোকিত করতে ফানুস উড়িয়ে থাকে তারা। রাখাইন নর-নারীরা প্রতিদিন সকালে বুদ্ধ পূজার উপাচার হতে পরিস্কার পোশাকে মহাসমারহে বিহারে গমন করে। আশার তৃপ্তি, অভিলাস পূরণ, ধ্যান, শিক্ষা ও কর্মসম্পাদনের জন্য এ দিনে তারা আপ্যায়নও দান করে থাকেন।  

রাখাইন সম্প্রদায় বিশ্বাস করে, তাদের ধর্মযাজক গৌতম বুদ্ধ সমাজ সংসারের মায়া ত্যাগ করে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ছিলেন ধর্ম প্রচারের কাজে। তিনি মূলত শাসক ছিলেন। এক সময় তার বোধোদয় হয় তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে ধর্ম প্রচারের কাজে। তখন এ ধর্মযাজক গৃহত্যাগ করেছিলেন। ভারতের কপিলা বস্তু নামক স্থানে পূর্ণকর্ম সম্পাদন করেন। এরপর লোকালয় ফিরলে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেনি অনেকেই। এসয় নিজের চুল তলোয়ার দিয়ে কেটে আকাশ পানে ছুড়ে মেরেছিলেন। সে চুল আর নিচে ফিরে আসেননি বলে গৌতম বুদ্ধ পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন। সেই থেকে গৌতম বুদ্ধকে মনে করতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা শুভ প্রবারণা উৎসবে প্রতি বছর পূর্ণিমায় ধর্মীয় কাজ শেষে ফানুস উড়িয়ে থাকে।  

কুয়াকাটা আগত পর্যটকরাও ফানুস উৎসব দেখার জন্য ভিড় করে। গোড়াআমখোলা পাড়ার বিজয় রামা বিহারের ভিক্ষু উ-সুচিটা  বলেন, দীর্ঘ একমাস ধরে রং-বেরংয়ের কাগজ এবং বাঁশের কঞ্চি দিয়ে এসব ফানুস তৈরি করা হয়।  

রাখাইন নেত্রী মেইনথিন প্রমীলা জানান, ফানুস উৎসব এখন সার্বজনীন রূপ নিয়েছে। সকল ধর্মের লোকজন এ উৎসবে মিলিত হয়ে আনন্দ পায়।

 

বিডি প্রতিদিন/১৮ অক্টোবর, ২০১৬/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow