Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:৫৬
মাদারীপুরে বিত্তবানদের পেটে হতদরিদ্রদের চাল
মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরে বিত্তবানদের পেটে হতদরিদ্রদের চাল

মাদারীপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা মূল্যের চালের কার্ড প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত ধনী ও নিজের সমর্থকদের নামে তালিকা প্রনয়ণের কারণে প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচীর সুফল পাচ্ছে না দরিদ্ররা।

 

এতে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বঞ্চিতদের মাঝে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে। অভিযোগে জানা গেছে, পাইকপাড়া ইউনিয়নে গরীবদের বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা তাদের নিজস্ব ও ধনী লোকদের নামে তালিকা করেছেন। এছাড়াও এক ব্যক্তি একাধিক কার্ড পেয়েছে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  

সরেজমিন অুনসন্ধানে জানা গেছে, পাইকপাড়া ইউনিয়নের দামেরচর গ্রামের রাজা মিয়া মাতুব্বরের স্ত্রী মালতি বেগমের নামে দুটি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। একটি কার্ডের সিরিয়াল নং ১৯৫ এবং আরেকটি কার্ডের সিরিয়াল নং ২৩৯। তার বাড়িতে পাকা ঘর রয়েছে এবং ছেলে বিদেশ থাকে। এছাড়া কৃষ্ণপুর গ্রামের রাঙ্গা মাতুব্বর, এসকেন মোড়ল, বন্দর আলি সরদার, দামেরচর গ্রামের নুরু কাজী, কাঠুরা কান্দা গ্রামের নাজমা বেগম, সহিদুল, দুক্ষিণ সারিস্তাবাদ গ্রামের ফাহিমা বেগম, মাঝকান্দা ফুলতলা গ্রামের মোতালেব একাধিক কার্ড পেয়েছে।  

আবার শ্রফলতলী গ্রামের সাবেক মহিলা মেম্বারের মেয়ে সেতু বেগম কার্ড পেয়েছেন। তার আধাপাকা বাড়ি, টিভি ফ্রিজ এবং জমিজমা রয়েছে। এছাড়া ও কৃষ্ণপুরের ঔষধ ব্যবাসায়ী ওবায়দুল হতদরিদ্রদের কার্ড পেয়েছেন। তার বাড়িতেও পাকা ঘর রয়েছে। এভাবেই বন্টন করা হয়েছে কার্ড। অপর দিকে দামেরচর গ্রামের সুফিয়া বেগম, শেফালি বেগম, সামলা বেগমসহ কয়েক হাজার নারী-পুরুষ রয়েছে যাদের নেই কোন বাড়িঘর বা জমি। অথচ তারা কার্ড পায়নি।  

দামেরচর গ্রামের শেফালি বেগম বলেন, আমার স্বামী নেই, আমার কোন জমিও নেই। অন্যের বাড়িতে কাজ করে আমার সংসার চলে। বড় কোন ছেলে মেয়েও নেই। আমি কার্ড পাইনি। একই গ্রামের সুফিয়া বেগম বলেন, আমি গরীব মানুষ আমি কার্ড পাইনি কিন্তু যাদের পাকা ঘর আছে, ছেলেরা বিদেশ থাকে এমন অনেকেই কার্ড পেয়েছে। এভাবেই জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রকৃত হতদরিদ্রদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

এব্যপারে মাদারীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভীর আহম্মদ বলেন, এধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের কার্ড সংশোধন করা হয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

 

বিডি প্রতিদিন/১৯ অক্টোবর ২০১৬/হিমেল

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow