Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:২৩
সিরাজগঞ্জে যমুনা স্পার বাঁধে ধস, ১৭০ মিটার বিলীন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জে যমুনা স্পার বাঁধে ধস, ১৭০ মিটার বিলীন

যমুনা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জ সদরের পাঁচঠাকুরি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত ২নং স্পার বাঁধে ধস নেমেছে। এতে প্রায় ১৭০ মিটার এলাকার মাটির স্যাংক বিচ্ছিন্ন হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বুধবার রাত থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত চলছে ভাঙন। আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বাঁধের পাশে বসবাসকারী মানুষগুলো। তাদের মতে, সঠিক মতো সংস্কার না করা এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে বাঁধটি ভেঙে গেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, আতংকের কিছু নেই, অল্প সময়ের মধ্যেই ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব।
 
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার অনেক গ্রাম বহু আগেই চলে গেছে যমুনা নদীর গর্ভে। পাঁচঠাকুরি,বালিঘুগরী, ইটালী ও বাহুকা কোন রকমে টিকে থাকলেও এখন রয়েছে ভয়াবহ ভাঙনের হুমকির মুখে। গ্রামগুলো রক্ষার জন্য ২০০০ সালে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ২নং স্পার বাঁধ। কিন্তু প্রবল ঘুর্ণাবর্তের কারণে বুধবার রাত থেকে বাঁধটিতে ভাঙন শুরু হয়। অব্যাহত ভাঙনে প্রায় ১৭০ মিটার এলাকার বাঁধের মাটির স্যাংক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় বাঁধ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাউবোর সঠিক তদারকির অভাব এবং বাংলা ড্রেজার দিয়ে বাঁধের আশপাশ এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে বাঁধটি যেন স্থায়ীভাবে মেরামতের পাশাপাশি প্রতিবছর সঠিকভাবে সংস্কার করা হয়।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে নদী তীর সংরক্ষণের জন্য সিরাজগঞ্জ থেকে কাজীপুর পর্যন্ত ২২টি প্যাকেজে ২৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু স্পারের উত্তরে ১৮নং প্যাকেজটি কাজ না হওয়ায় ২০১৫ সালে নতুন করে ৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয় ধরে নতুন করে দরপত্র আহবান করা হয়। কিন্তু এখনও প্যাকেজটির কাজ শুরু করা হয়নি। এ অবস্থায় মাত্র একমাস আগে ওই স্থানে ভাঙন দেখা দেয় এবং বাঁধ এলাকায় প্রবল ঘুর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়। এতে স্পারটিতে শুরু হয় ভাঙন।
এদিকে, ভাঙনের সংবাদ পেয়ে সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাবুল চন্দ্র শীল, সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা ও  নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমামসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান ইমাম জানান, হঠাৎ করেই পানি বৃদ্ধির কারনে স্পারে ধ্স নেমেছে। কাজ শুরু করা হয়েছে। দু'য়েক দিনের মধ্যেই ভাঙন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা জানান, ভাঙন রোধে দ্রুত কাজ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্থদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেন।

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow