Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:০৫ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:০৫
মেলায় মাছের দাম লাখ টাকা, মিষ্টির ওজন ১০ কেজি
আব্দুর রহমান টুলু, বগুড়া:
মেলায় মাছের দাম লাখ টাকা, মিষ্টির ওজন ১০ কেজি
মাছ আকৃতির ১০ কেজি ওজনের মিষ্টি

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় দেড়শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় হয়ে গেল বড় মাছের প্রতিযোগিতা। মেলায় বড় মাছ তোলা আর বড় মাছ কেনা নিয়ে ছিল একরকম প্রতিযোগিতা।

এ প্রতিযোগিতায় হার জিত না থাকলেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া পোড়াদহ মেলায় এবারের সবচেয়ে বড় মাছ উঠেছে ৬৩ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ। মাছটির দাম হাঁকা হয়েছে ১ লাখ টাকা।

এছাড়া বোয়াল, কাতলা, রুই পাঙ্গাস, মাছ উঠেছে ১ থেকে ৩০ কেজি ওজনের। মাছের পাশাপাশি মেলায় মাছ আকৃতির ১০ কেজি ওজনের মিষ্টি, বাঁশ ও কাঠের ফার্নিচার কেনাকাটায় মুখিয়ে ছিল প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ।

জানা যায়, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নে ইছামতি নদীর শাখা (খাল) সংলগ্ন পোড়াদহ নামক স্থানে বসে এই মেলা। প্রায় দেড়শতাধিক বছর আগে বগুড়া-চন্দনবাইশা সড়ক সংলগ্ন পোড়াদহ খালের পাড়ে এক বিশাল বটবৃক্ষ তলে আয়োজন করা হতো সন্যাসী পূজার। প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ বুধবার আয়োজিত এই মেলা কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে পূর্ব বগুড়াবাসীর মিলনমেলা। পোড়াদহ নামক স্থানে হয় বলে এ মেলার নাম হয়ে যায় পোড়াদহ মেলা। সন্যাসির মেলা দিয়ে শুরু হয়ে পোড়াদহ মেলা কালের বিবর্তনে এখন বলা হয় মাছের মেলা।

স্থানীয়রা বলেন, জামাই মেয়ে মেলা। মেলাকে ঘিরে আশপাশে প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে নিমন্ত্রণ দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে। তাদের সাথে নিমন্ত্রণ দিয়ে থাকে স্বজনদের। এ কারণে স্থানীয়রা এ মেলাকে জামাই মেয়ে বলে থাকে। নদী তীরবর্তী স্থানে এই মেলায় দিন দিন নানা প্রজাতির মাছের আমদানি হতে থাকে। মেলা থেকে বড় মাছ কিনে থাকে গ্রামের জামাইরা। কোন কোন জামাই কতবড় মাছ কিনেছে তার একটি লোকমুখে প্রতিযোগিতা চলে আসে। আবার মেলায় কোন জেলে কত বড় মাছ তুলেছে তা নিয়ে মেলা অঙ্গনে পড়ে যায় শোরগোল। মেলাকে ঘিরে মেলা এলাকার চারপাশের কমপক্ষে ৩০ গ্রামে ঈদের মত আনন্দ বয়ে যায়। মেলার প্রথম দিনে ছেলেদের ভিড়ে মেয়েরা প্রবেশ করতে পারে না বলে দ্বিতীয় দিন বউমেলার আয়োজন করা হয়। এ মেলায় পুরুষরা প্রবেশ করতে পারে না। মেলায় হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ঘটে।

এবছরও একটি ১০ কেজি ওজনের মিষ্টি বিক্রি হয়েছে। সৈয়দ আহম্মেদ কলেজ এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের দোকানে এ মিষ্টি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকায়। এছাড়া এক কেজি, দুই কেজি, ৩ কেজি, ৪ কেজি ওজনের মিষ্টিও মেলায় পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন নামে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হরেক প্রজাতির বিশাল আকৃতির মাছ এই মেলার প্রধান আকর্ষণ। পোড়াদহ মেলায় এবারের সবচেয়ে বড় ৬৩ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছটি নিয়ে এসেছেন গাবতলী উপজেলার মহিষাবান গ্রামের মাছ ব্যবসায়ি দুখু মিয়া। রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে আনা মাছটি পদ্মা নদীর বলে তিনি জানান।

বুধবার মেলার শুরুতে মাছটির দাম হাঁকা হয় ১৬০০ শ’ টাকা কেজি। এক লাখ টাকা হলে তিনি বিক্রি করবেন। দুপুরের পর মাছটি ১৫০০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি করা হয়। স্থানীয়রা এই মাছটি ভাগাভাগি করে কিনে নেয়। ব্লাক কার্প ১২ কেজি ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ৩০০ টাকায়। বাঘাইড় মাছের পাশাপাশি বোয়াল মাছ ২০ কেজি, কাতলা মাছ ২২ কেজি, রুই মাছ ১২ কেজি, পাঙ্গাস মাছ ১৫ কেজি ওজনের, বিগ্রেড ১০ কেজি ওজনের মাছ উঠেছে। এছাড়া বিভিন্ন আকারের মাছ এবারের মেলায় উঠেছে। বড় আকারের মাছ গুলো ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা কেজি করে বিক্রি হয়েছে। হাজার হাজার মন মাছ বিক্রি হয়েছে।
মেলার মাছ বিক্রেতা মোঃ সুলতান জানান, মেলাকে সামনে রেখে মাছ ব্যবসায়িরা বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ সংগ্রহ করে আশপাশের পুকুরে রেখে দেয়। কেউ কেউ আবার বড় মাছগুলোকে বিশেষ কায়দায় নিয়ে এসে মেলার পাশের নদীতে ঘের তৈরী করে রেখে দেয়।

বগুড়ার গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আ.ন.ম আব্দুল্লাহ আল হাসান জানান, মেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মেলার কয়েকদিন আগে থেকেই বিক্রেতারা ভিড় করতে থাকে। একারণে থানা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/৮ফেব্রুয়ারি ২০১৭/ সালাহ উদ্দীন

 

আপনার মন্তব্য

up-arrow