Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৪:৫১ অনলাইন ভার্সন
নানা অনিয়মে চলছে ঠাকুরগাঁও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
নানা অনিয়মে চলছে ঠাকুরগাঁও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর

জনবল সংকট আর কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও জেলার যুব সমাজের আত্বকর্মী হতে ভুমিকা রাখতে পারছে না। স্বয়ং উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকি দিয়ে মাসের পর মাস ঢাকায় বসে থাকার অভিযোগও রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর সড়কের পাশে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর মৌজায় প্রায় ৫ একর জমির উপর ঠাকুরগাঁও যুব ভবন অবস্থিত। সরকারি অর্থে নির্মিত একটি দৃষ্টি নন্দন ভবনে যুব উন্নয়ন অফিসের কার্যক্রম চললেও এ ভবনটি বেশিরভাগ সময়ে থাকে ভুঁতুড়ে অবস্থায়। এখানে আবাসিক ও অনাবাসিক বিভিন্ন ট্রেডে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে আত্বকর্মী নেই বললেও চলে।  

বর্তমানে ৮০ তম ব্যাচ চললেও গ্রাম পর্যায়ে কতজন সফল আত্বকর্মী রয়েছে তার হিসেব নেই এ জেলা কার্যালয়ে। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তারা আত্বকর্মীদের দেখভাল করেন বলে জেলা অফিসে কোন তালিকা নেই। এখানে সেলাই ট্রেডে ২৫ জন, কম্পিউটার ট্রেডে ৪০ জন, ইলেক্টিক্যাল এন্ড হাউজ ওয়্যারিং ট্রেডে ৩০ জন, ইলেক্টনিক্স এন্ড রেফ্রিজারেশন ট্রেডে ৩০ জন, মোবাইল রিপ্যারিং ট্রেডে ২৫ জন এবং মৎস্য চাষ ট্রেডে অনাবাসিক ২৫ জন প্রশিক্ষনার্থী ভর্তি হয়।

এখানে ১৩ জন কর্মকর্তা কর্মচারি থাকার কথা থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৮ জন। তন্মধ্যে ২ জন এডি, ১ জন ইউডি, ১ জন প্রশিক্ষক সহ ৫টি পদে কোন লোক নেই। এদিকে উপ-পরিচালক আব্দুল কাদির মাসের বেশিরভাগ সময়ে অফিস ফাঁকি দিয়ে ঢাকার বাসায় অবস্থান করেন এমন অভিযোগ রয়েছে।

 

মাঝে মাঝে তিনি বেতন উত্তোলনের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন মাত্র। সর্বশেষ গত ৩ নভেম্বর তিনি অফিস করলেও তারপর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার অনুপস্থিতির কারণে মাঠ পর্যায়ে মনিটরিংসহ দাপ্তরিক কাজে চরম ব্যাঘাত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশিক্ষনার্থী অভিযোগ করে বলেন, "প্রশিক্ষনার্থীদের পোশাকের জন্য প্রতি বছর সরকারি ভাবে বরাদ্দ আসলেও উপ পরিচালক কাউকে না জানিয়ে গোপনে সমুদয় টাকা উত্তোলন করে আত্বসাৎ করেন। " 

অফিসের ডাটা এন্ট্রি সহকারি জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, "অফিসে অনেকেই সময় মত আসেন না। বেশির ভাগ সময় ছুটিতে থাকেন অফিসের কর্মকর্তারা। " 

এ ব্যাপারে উপ-পরিচালক আব্দুল কাদির সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমরা সরকারি ভাবে যত বরাদ্ধ পাই তা প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। আমাকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরিদর্শন করতে হয়। যে কারণে অফিসে কম সময় দেওয়া হয়। "

 

বিডি-প্রতিদিন/ ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/ আব্দুল্লাহ সিফাত-১৭

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow