Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১০:১৩ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:১৮
পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ
নাটোরে ভাইকে ছাড়াতে বোনকে পুলিশের কুপ্রস্তাব
নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরে ভাইকে ছাড়াতে বোনকে পুলিশের কুপ্রস্তাব

নাটোরের লালপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদ ও কনস্টেবল সালামের বিরুদ্ধে এক নারীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, পুলিশের হাতে আটক ভাইকে ছাড়ানোর বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন ওসি।

 

অপরদিকে, ওই নারীকে সহায়তার বিনিময়ে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর প্রস্তাব দেন কনস্টেবল। ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চেয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
 
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিপক্ষের দেওয়া হয়রানিমূলক মামলায় জামিনে থাকা লালপুর বিশ্বম্ভরপুর গ্রামের বাসিন্দা ইশ্বরদী সরকারী কলেজের ছাত্র রমজান আলীকে গত ২৭ জানুয়ারি ধরে নিয়ে যায় লালপুর থানা পুলিশ। পরদিন তার বোন সাথী আরা খাতুন থানায় গেলে রমজানকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন থানার ওসি আবু ওবায়েদ।  

টাকা না পেয়ে চুরির মামলায় জড়িয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয় রমজানকে।  

ঘটনার এখানেই শেষ নয়, সহায়তার আশ্বাস দিয়ে নিজের ভিন্ন নাম বলে সাথী আরা খাতুনের মোবাইল নম্বর রেখে দেয় কনস্টেবল সালাম। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে সহায়তার বিনিময়ে সাথীকে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন তিনি। যার অডিও রেকর্ড চলে আসে গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে।  

পুলিশের এমন আচরণে শঙ্কিত সাথী আরার পরিবার ও এলাকাবাসী।

তারা দ্রুত পুলিশী হয়রানি থেকে প্রতিকার পেতে চান।  

এদিকে, কথোপকথনের বিষয়টি স্বীকার করলেও অনৈতিক প্রস্তাবের কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কনস্টেবল। অডিও রেকর্ডের কথা বললে, সাংবাদিকদের উপর চড়াও হন কনস্টেবল সালাম। থানায় কার অনুমতি নিয়ে ঢুকেছেন বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।  

ওসির সাথে দেখা করতে চাইলে বাধা দেন সালামসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা। থানার বাইরে থেকে মোবাইলে ওসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।  

সাথী আরা খাতুন বলেন, অনেক আশা নিয়ে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছি। তিনি অবশ্যই ন্যায় বিচার করবেন।
 
রমজান আলী ও সাথীর বাবা আলাউদ্দিন মন্ডল ও মা মরিয়ম বেগম জানান, পুলিশ টাকা না পেয়ে আমার জামিনে থাকা ছেলেকে চুরি মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠিয়েছে। রমজান ইশ্বরদী কলেজে অনার্সে পড়ছে। এখন তার লেখাপাড়ার কি হবে?

মোহরকয়া গ্রামের বাসিন্দা রুবেল হোসেন বলেন, পুলিশ যদি অন্যায় করে, তবে তারও বিচার হওয়া দরকার।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠায় ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত  প্রয়োজন। নইলে জনগণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
 
অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়েছেন নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার।  


বিডি প্রতিদিন/১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow