Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১০:১০ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৪:০২
জঙ্গি পরিচয়ে মারজানের বাবার স্বপ্ন ভঙ্গ
লাশ নিতে চায় পরিবার
পাবনা প্রতিনিধি:
জঙ্গি পরিচয়ে মারজানের বাবার স্বপ্ন ভঙ্গ

স্বপ্ন ছিল ছেলে লেখাপড়া শেষে পরিবারের হাল ধরবে। অভাবের সংসারে আসবে সুদিন।

হতদরিদ্র নিজাম উদ্দিনের সে স্বপ্নে ছাই ঢেলে দিয়েছে মারজানের জঙ্গি পরিচয়। গুলশান হামলার অন্যতম এই মাস্টারমাইন্ডের কৃতকর্মের দায় নিতে রাজি নয় তার পরিবারও।  

পাবনা শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে আফুরিয়া গ্রামে এক হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম গুলশান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী নুরুল ইসলাম মারজানের। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী মারজান দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় জিপিএ পাঁচ পেয়ে পাশ করলে আর্থিক সঙ্গতি না থাকার পরও বাবা নিজাম উদ্দিন ছেলেকে ভর্তি করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ধার দেনা করে ছেলের পড়ার খরচ জুগিয়ে সুদিনের আশায় দিন গুনছিলেন তিনি। তবে, চলতি বছরের জানুয়ারী মাস থেকে হঠাৎই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় মারজান। গুলশান হামলার পর গণমাধ্যমের ছবিতে তাকে জঙ্গি নেতা হিসেবে আবিষ্কার করে পরিবার।

মারজানের বাবা নিজাম উদ্দিন জানান, আমি খুবই হতদরিদ্র একজন পোশাক শ্রমিক। ছোটবেলা থেকেই মারজান খুবই মেধাবী। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ায় সামর্থ না থাকা সত্ত্বেও তাকে ধারদেনা করে পড়াশোনা করাচ্ছিলাম। কিন্তু ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসের পর বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সে। এরপর হঠাৎ জানলাম সে জঙ্গি দলে নাম লিখিয়েছে। আমার সব স্বপ্ন এক মূহুর্তে ভেঙে দেবার আগে একবারও সে পরিবারের কথা ভাবল না। তার অপরাধের দায় আমি নিতে রাজি নই। তবে, বাবা হিসেবে সন্তানের লাশ দাফন করা আমার কর্তব্য,তাই সরকার দিলে মৃতদেহ গ্রহণ করব।

মারজানের মা সালমা খাতুন বলেন, আমার ছেলে দেশের বিরুদ্ধে কাজ করেছে, তার কাজের শাস্তি সে পেয়েছে। কিন্তু তার স্ত্রীকে এ পথে যেতে হয়তো বাধ্য করেছে সে, তাই আমি মারজানের স্ত্রী সন্তানকে ফিরে পেতে চাই। সরকার যেন তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।

হঠাৎ পাওয়া জঙ্গি পরিচয়ে বিস্মিত হলেও তার অপরাধের দায় নিতে রাজি নন মারজানের স্বজনরা। জঙ্গি গোষ্ঠী অর্থবিত্তের লোভ দেখিয়ে মেধাবী মাদ্রাসা ছাত্রদের ভুলপথে পরিচালিত করছে বলে দাবি করেছেন মারজানের মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
এ প্রসঙ্গে পাবনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আনসারুল্লাহ বলেন, কাফের হত্যা করলে বেহেশতে যাওয়া যাবে এ কথা ইসলামের কোথাও লেখা নেই। যার এরূপ মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে ইসলামকে বিতর্কিত করে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।

মিথ্যা প্রলোভনে তরুন সমাজকে যারা জঙ্গিবাদের পথে পরিচালিত করছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি মারজানের পরিবারের। সহজ সরল ছেলেদের বিভ্রান্ত করে যারা জঙ্গি বানায়, তাদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন তারা।

 

বিডি প্রতিদিন/১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/হিমেল

আপনার মন্তব্য

up-arrow