Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৪৭ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
রোগীর স্বজনকে পিটিয়ে ধর্মঘট ডাকলেন ইণ্টার্ণ চিকিৎসকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:
রোগীর স্বজনকে পিটিয়ে ধর্মঘট ডাকলেন ইণ্টার্ণ চিকিৎসকরা

রোগীর স্বজনকে পিটিয়ে আহত করে ইন্টার্ণ চিকিৎসকরাই ধর্মঘট ডেকেছেন। সেই ধর্মঘট আবার সমঝোতা করার জন্য জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা বৈঠকে বসেন।

এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে। রবিবার বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, এক রোগীর আত্মীয়কে দফায় দফায় পিটিয়ে একটি রুমে আটকে রাখে ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা। পরে তাকে একশ' বার কান ধরে উঠবস করানো হয়। এরপর বেলা ১২ টা থেকে হাসপাতালের গেট বন্ধ করে দিয়ে ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম ৩ ঘন্টা বন্ধ থাকে। এ সময় হৃদ রোগীসহ অসংখ্য রোগী চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান। পরে তারা হাসপাতালের ইন্টার্ণ চিকিৎসদের নিরাপত্তা, রোগীর এ্যাটেনডেন্টের সংখ্যা সীমিতকরণসহ ৭ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এসব ঘটনার পর বিকালে জরুরি বিভাগ খুলে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শনিবার রাতে সিরাজগঞ্জের কোনাগাতী থেকে আলাউদ্দিন সরকার (৬৫) মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন। রবিবার বেলা ১১টায় ওই রোগীর ছেলে আব্দুর রউফ (৩৫) রুমের ফ্যান বন্ধ করার জন্য উপস্থিত ইন্টার্ণ চিকিৎসকের সাহায্য চাইলে ওই চিকিৎসক তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চিকিৎসকরা রউফকে ধরে মারপিট শুরু করেন। পরবর্তীতে ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা একত্রিত হয়ে রউফকে ধরে নির্মমভাবে মারপিট করে একটি রুমে আটকে রাখেন। এরপর দফায় দফায় চলে তার উপর নির্দয় নির্যাতন। পুলিশের সামনেই তাকে কয়েক দফা মারপিট করা হয়।

পরবর্তীতে হাসপাতাল পরিচালকের রুমেও তাকে এবং তার বোনকে মারপিট করা হয়। নিয়ন্ত্রনহীন ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের এ ঘটনায় উপস্থিত সবাই হতবাক হলেও নিজের রোগীর সমস্যা হবে ভেবে কেউ রউফকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি। হাসাপাতাল প্রশাসন ও পুলিশ ছিল নির্বাক।

মারপিটের শিকার রউফের দুই বোন বিনা ও সেতু বলেন, পরিচালকের কক্ষে মারপিট করার সময় আমরা দুইজন তাকে রক্ষা করতে গেলে ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে বলি, আমরা এই অমানবিক ঘটনার জন্য আমাদের সিরাজগঞ্জের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ভাইয়ের কাছে বিচার চাইবো। একথা বলার পর তারা আমার ভাইকে মারপিটের গতি বাড়িয়ে দেয়। আমাদেরও গায়ে হাত তোলে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালকের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।


বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

up-arrow