Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:০২ অনলাইন ভার্সন
পাহাড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ বাউকুল
ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি:
পাহাড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ বাউকুল

পাহাড়ে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে হালকা হলুদ ও সবুজ রঙের বাউকুল। দেখতে খুব আকর্ষনীয় এই বাউকুল স্বাদে মিষ্টি ও মজাদার।

মনোলোভা এসব বাউকুলের বাম্পার ফলন হয়েছে রাঙামাটি জেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের শুকুরছড়ির বোধিপূর গ্রামে। ইতোমধ্যে প্রায় সবগুলো গাছে ফলন আসতে শুরু করেছে। আবার কোন কোন গাছে ব্যাপক ফলও ধরেছে।  

সাড়া জাগানো এসব বাউকুল নিয়েই আলোচনা পাহাড় জুড়ে। উৎপাদনও বাম্পার। বেশি লাভ, ফলন ভালো। তাই পাহাড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাউকুল চাষ। শুধুমাত্র রাঙামাটি নয়। অপর দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বাউকুল চাষ ছড়িয়ে দেয়া গেলে কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি জেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের শুকুরছড়ির বোধিপূর গ্রামের কৃষকরা পাহাড়ি টিলা টিলাই চাষ  করে বাউকুল। বাদুর ও পাখিদের হাত থেকে রক্ষা করতে জাল দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় বাউকুল বাগান। সঠিক পরিচর্যার কারণে ফলন ফেয়েছে আশানুরূপ। বাগনের মাত্র অর্ধেক বাউকুল বিক্রি করে চাষীদের আয় হয়েছে অর্ধলাখ টাকা।  

শুকুরছড়ির বোধিপুরের বিজয় গ্রাম প্রধান (কার্বারী) জানান, স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে পাহাড়ি জমিতে বাউকুলের অভাবনীয় ফলন পাওয়া গেছে। বাজারে চাহিদা অনেক, তাই দাম ভাল। পাহাড়ের উৎপাদিত এসব বাউকুল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এক কজি বাউকুল ১৫০ থেকে ২০০টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শান্তিময় চাকমা জানান, রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় বাউকুল চাষ বেড়েছে। পাহাড়ি টিলাই ৩০ থেকে ৫০টা বাগানে এবার বাউকুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনেক কৃষক পরিবার বাউকুল চাষ করে সচল হয়েছে। একটা বাগান থেকে ১৫০ থেকে ২০০ মন বাউকুল উৎপাদন করা সম্ভব।  

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক রমণী কান্তি চাকমা জানান, পাহাড়ের উচুঁ জমি কুলচাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে বাউকুল চাষ বাড়ানো সম্ভব। অপার সম্ভবনা আছে এ ফলের। পাহাড়ে যে পরিমাণে অনাবাদি পতিত জমি রয়েছে তাতে এলাকার যুব সমাজ কুল চাষে এগিয়ে এলে তাতে বেকারত্ব যেমন কমবে, তেমনি অন্যান্য অর্থকরী ফসলের সঙ্গে কুল চাষ বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন কৃষিবিদরা।

অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি সরকারিভাবে এসব বাউকুল চাষীদের সহযোগিতা করা হলে পাহাড়ের বাউকুলের সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে।

 

বিডি প্রতিদিন/২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/হিমেল

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow