Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:২৭ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৪:১৩
পদ্মা শুকিয়ে মরুভূমি
মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে বরেন্দ্র অঞ্চল
মর্তুজা নুর
মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে বরেন্দ্র অঞ্চল

পদ্মার পাড় ঘেঁষেই অবস্থিত রাজশাহী শহর। পদ্মার পাড়ে বর্ষা মৌসুমে দাঁড়ালে প্রাণ খুলে গাইতে ইচ্ছে করে করে ‘সর্বনাশা পদ্মা নদী তোর কুল কিনারা নাই রে’।

অথচ শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই পদ্মা নদী এখন পানিশূন্য। তাকালেই মনে পড়ছে রবীন্দ্রনাথের কবিতা-‘আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে। ’ 

এখন হাটু জলও নেই। পদ্মা নদীর বালুর স্তরে স্তরে আটকে আছে মাঝিদের নৌকা। বিশাল বালু রাশির ওপর দিয়ে চলছে গরু-মহিষের গাড়ি। অথচ বছর দশেক আগেও এই সময়ে পদ্মায় পানি থাকতো। এখন তা শুধুই স্মৃতি। রাশি রাশি ঢেউয়ের অপার সৌন্দর্য হারিয়ে পদ্মা এখন ধূ-ধূ মরুভূমি।

পদ্মার এই করুণ পরিণতিতে অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে বরেন্দ্র অঞ্চলের খাল-বিল, নদী-নালা।

একইসঙ্গে দ্রুত নেমে যাচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর । পদ্মা পানিশূন্য হওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভের পানির স্তরও নামছে নিচে। ঠিকমতো পানি মিলছে না গভীর নলকূপে। দেখা দিয়েছে সেচ ও পানীয় জলের সঙ্কট। পদ্মা শুকিয়ে যাওয়ায় এরই মধ্যে মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে গোটা বরেন্দ্র অঞ্চল।

এদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগেই পানিশূন্য হয়ে যাচ্ছে পদ্মা। এর ফলে চর ও বরেন্দ্র এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে বৈরী আবহাওয়া। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলের মানুষের একদিকে যেমন স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে এর বিরূপ প্রভাব কৃষিতে পড়ায় মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্তমানে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর গড়ে ১১০ ফুট নিচে অবস্থান করছে। দিনে দিনে তা আরও নিচের দিকে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে শত শত গভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে।

রাজশাহীর অঞ্চলে শুরু হয়ে গেছে বোরো ধান লাগানোর কাজ। ভূগর্ভের পানি নিচে চলে যাওয়ায় পানি সংকট দেখা দিচ্ছে কৃষি কাজেও। কৃষকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে পানি সেচ। তারা আশঙ্কা করছে, চলতি বোরো মৌসুম আমলে পানি সেচের অভাবে চাষাবাদে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশেজ্ঞরা বলছেন, ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে উজানে ভারতের অব্যাহত পানি প্রত্যাহারের ফলেই পদ্মার এই করুণ দশা। অথচ ফারাক্কা বাঁধের কারণে প্রতিবছর বন্যায় ডুবছে ভারতের বিস্তির্ণ অঞ্চল। সে কারণে নেপালের গান্ডাক নদীর দু’পাশেও দেখা দিচ্ছে বন্যা। ফারাক্কা বাঁধের কারণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে তিন দেশেই।  

জানা গেছে, শুধু ফারাক্কা নয়, কানপুরে গঙ্গা ব্যারাজ ও হরিদ্বারে গঙ্গার পানি প্রত্যাহারে নির্মিত কৃত্রিম খালসহ অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ করেছে ভারত। ফারাক্কার উজানে উত্তর প্রদেশের কানপুরে গঙ্গার ওপর আরও একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর প্রদেশ ও বিহারে সেচের জন্য প্রায় ৪০০ পয়েন্ট থেকে পানি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এসব পয়েন্ট থেকে হাজার হাজার কিউসেক পানি প্রত্যাহার করে নেয়ায় ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহ কমে গেছে।

বিশিষ্ট পানি গবেষক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারোওয়ার জাহান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কৃষি সব সময় পানির ওপর নির্ভরশীল। বরেন্দ্র অঞ্চলে শুষ্ক হওয়ার কারণে বোরো চাষের জন্য বেশি পানির প্রয়োজন হয়। পদ্মা নদীতে যদি পানি থাকে তবে গভীর নলকূপ ব্যবহার করে খুব সহজেই সেচের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়। কিন্তু পদ্মার শুকিয়ে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব কৃষিতে পড়ছে।  

 

বিডি প্রতিদিন/২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

up-arrow