Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:০১ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
'পুলিশ-জনতার মধ্যে দুরত্ব দূর করতে হবে'
দিনাজপুর প্রতিনিধি
'পুলিশ-জনতার মধ্যে দুরত্ব দূর করতে হবে'

পুলিশের আইজিপি একেএম শহীদুল হক বলেছেন, "পুলিশ-জনতার মধ্যে দুরত্ব দূর করতে হবে। সমাজে মানুষের শান্তির জন্য নাগরিক এবং পুলিশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

আর এক্ষেত্রে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে কমিউনিটি পুলিশিং। " আজ শনিবার দিনাজপুর জেলা কমিউনিটি পুলিশিং আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল তিনি হক এ কথা বলেন।  

এ সময় পুলিশের এই মহাপরিদর্শক বলেন, "বর্তমানে দেশে মূল সমস্যা মাদক ও জঙ্গিবাদ। পুলিশের একার পক্ষে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। পুলিশ-জনতা একসাথে কাজ না করলে মাদক ও জঙ্গিবাদের মত বড় সমস্যা দূর করা যাবে না। রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত  দেশে অরাজকতা, হিংসাত্বক কর্মকান্ড চালিয়ে নীরিহ জনগনের সাথে ১৬ জন পুলিশ হত্যা করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য পুলিশের মনোবল ভেঙ্গে দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়া। । কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য সফল হয় নাই। বাংলাদেশ পুলিশ জনগনকে সাথে নিয়ে এসব ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা নৎসাহ করে দিয়েছে। "

তিনি আরও বলেন, "এখন বড় চ্যালেঞ্জ জঙ্গী আর মাদক। এ দুইটিকে নির্মুল করতে পুলিশ এবং প্রশাসন থেকে সব রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জঙ্গী দমনে আমরা সফল হয়েছি। জনগণকে পুলিশের ওপর ভরসা রাখতে হবে। পুলিশকেও জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। পুলিশ তার যথাযথ ভূমিকা পালন করলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। কমিউনিটি পুলিশিং একটি স্বেচ্ছাসেবীমুলক সংগঠন। সংগঠনের সবাইকে ভাল মনের মানুষ হতে হবে। টাউটবাটপার, সমাজ বিরোধী কিংবা পুলিশের দালালরা না আসতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। " 

আইজিপি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনার সন্তানেরা কে কোথায় যায়, কার সাথে মিশে, কি করে, এসব বিষয়ে খবর রাখতে হবে। সমাজকে জঙ্গি ও সন্ত্রানমুক্ত করতে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাহলে সন্ত্রাসমুক্ত একটি সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। "

সমাবেশে দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. হামিদুল আলম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, কমিউনিটি পুলিশিং জেলা সমন্বয় কমিটির আহবায়ক বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক ডা. মো. শহিদূল ইসলাম খান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য সচিব গোলাম নবী দুলাল, দিনাজপুর শহর কমিটির সভাপতি ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সদর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন, খানসামা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুজ্জামান শাহ, দিনাজপুরের স্বপ্নপুরীর স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. দেলোয়ার হোসেন, বিরল উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, ফুলবাড়ী উপজেলা সভাপতি মাসুদুর রহমান, বোচাগঞ্জ সভাপতি আব্দুল মমিনসহ ১৩ উপজেলা জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।  

সমাবেশে দিনাজপুর জেলার ১৫৭জন আত্মসর্মপনকারী মাদক ব্যাবসায়ীর মাঝে পুর্নবাসনের জন্য ভ্যান ও সেলাই মেশিন দেওয়া হয়। দিনাজপুর জেলার ১৩ উপজেলার কমিউনিটি পুলিশিংয়ের প্রায় ২৫ হাজার সদস্য স্বতর্ষফুর্তভাবে এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

 

 

বিডি-প্রতিদিন/ ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/ আব্দুল্লাহ সিফাত-১৮

আপনার মন্তব্য

up-arrow