Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:৪১ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
উদ্বিগ্ন কৃষি বিভাগ
রাঙামাটির ৪ উপজেলায় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে তামাক চাষ
ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

রাঙামাটির ৪ উপজেলায় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে তামাক চাষ

রাঙামাটি জেলার চার উপজেলায় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তামাক চাষ। একারণে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি।

একটা সময় বাঘাইছড়ি, লংগদু, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলায় দেখা যেত বোরো ধান, গম, ভুট্টা, আলু, তরমুজ, কলা, শীতের হরেক রকম সবজির চাষ। কিন্তু এখন এসব শুধুই কল্পনা। বর্তমানে সব জমিতে তামাক গাছে ভরপুর।
 
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারি, পৌরসভা, ম্যারিশা, উপজেলা সদর, মাষ্টার পাড়া, মাদ্রাসা পাড়া, বটতলী, উলুছড়ি, লাল্যাঘোনা ছড়া, তুলাবান, শিলকাটা ছড়া, ঢেবাছড়ি, দুরছড়ি, খেদারমারা, পাবলাখালী, মগবান, কেরেঙ্গাতলী, বাঘাইহাট, শিজক, কচুছড়ি, মোরঘোনাছড়া, সারোয়াতলী মহিষপয্যা, খাগড়াছড়ি, আমতলী ও মাহিল্যা এলাকায় হাজার হাজার কৃষি জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর, ফসলি জমি, বসবাড়ির আগিনা, সড়কের দু’পাশে, পাহাড়ের টিলাসহ এমনকি কাচালং নদীর পাড় দখল করে চাষ হয়েছে তামাক। মাঠ জুড়ে এখন শুধু তামাক গাছের অরণ্য। তাছাড়া ফলনও হয়েছে বাম্পার।

রাঙামাটি জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বছর ধরে শুধুমাত্র রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় তামাক চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে আরও তিনটি উপজেলা লংগদু, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়িতেও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে তামাক চাষ। বর্তমানে রাঙামাটির চার উপজেলা মিলে মোট ৭০০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে। সল্প খরচ ও বেশি লাভের আশায় কৃষকরা তামাক চাষে ঝুঁকছে। তাছাড়া প্রতি বছর বিভিন্ন তামাক সংগ্রহকারী কোম্পানি কৃষকদের বেশি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তামাক চাষে আগ্রহী করে তুলেছে। এজন্য চাষীদের অর্থ বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করে দিচ্ছে এসব কোম্পানিগুলো। তবে এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রমণি কান্তি চাকমা জানান, উদ্বেগজনকভাবে পার্বত্যাঞ্চলে তামাক চাষ বেড়েছে। সামনে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তামাক চাষের বেশি লাভের আশায় কৃষকরা সবজি চাষ করতে চাই না। তামাক চাষের কারণে মাটির উর্বরতা শক্তি যেমন হ্রাস পাচ্ছে, তেমনি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবেশও। একটা সময় পাহাড়ে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে। তবে তিনি এও জানান, তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

 
বিডি-প্রতিদিন/২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/মাহবুব
 

 

আপনার মন্তব্য

up-arrow