Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:৫০ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:৫৩
১১ বছরেও শেষ হয়নি সড়কটির নির্মাণ কাজ!
রাস্তায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছে এলাকাবাসী, হচ্ছে সবজি চাষ
বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ:
১১ বছরেও শেষ হয়নি সড়কটির নির্মাণ কাজ!

সড়কটির নির্মান কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে। আজও শেষ হয়নি।

এটি ১৮৯৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কানাডার 'ইয়াং স্ট্রিট'-এর মতো কোন সড়ক নয়। মাত্র অর্ধশত কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশের একটি আঞ্চলিক মহাসড়ক। নওগাঁর রাণীনগরের উপর দিয়ে যাওয়া নওগাঁ-নাটোর এই আঞ্চলিক মহাসড়কটির নির্মাণ কাজ দীর্ঘ ১১ বছরেও শেষ হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পড়ে থাকার কারনে অধিকাংশ জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। কোথাও সড়কের উপর কুঠরি ঘর নির্মান, কোথাও ধান শুকানোর কাজ চলছে, আবার কোথাও সড়কের উপর সবজির চাষ করা হচ্ছে। সড়কটির নির্মান কাজ শেষ হলে একদিকে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগে যেমন দূরত্ব কমবে, অন্যদিকে কৃষিপণ্য সরবরাহ সহজ হবে, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে উৎপাদিত ফসলের।

নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সূত্র মতে, নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের জন্য ২০০৫ সালে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ৯৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন দেয়। কিন্তু পরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সীমিত আকারে ৫০ কোটি টাকার অনুমোদন দেয়। ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাটোরের নলডাঙ্গায় এই সড়কের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। এরপর ২০০৭ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে ৪৮ কিলোমিটার রাস্তার মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়। মহাসড়কের নওগাঁ অংশের ২৬ কিলোমিটারের মধ্যে সাড়ে ৭ কিলোমিটার রাস্তা পাকা হয়। আর নাটোর অংশের সাড়ে ২২ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ১৬ কিলোমিটার রাস্তা পাকা হয়। মোট ২৩ কিলোমিটার রাস্তা পাকা হওয়ার পর হাইড্রোলজি সমীক্ষার নামে বন্ধ হয়ে যায় সড়কটির নির্মাণ কাজ। সড়কটি পাকা না হওয়ায় বাকি সাড়ে ২৫ কিলোমিটার রাস্তা এখন এলাকাবাসীর গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। রাস্তার উপরে কলা বাগান, সবজি চাষসহ ছোট ছোট বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছে এলাকাবাসী। এর মধ্যে শুধুমাত্র সান্তাহারের ঢাকা রোড থেকে রাণীনগর রেলস্টেশন পর্যন্ত পাকাকরণের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। রাণীনগর-নলডাঙ্গা পর্যন্ত রাস্তার মাটি ভরাটসহ অন্য কোন কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় নাটোর-নওগাঁ-সান্তাহার হয়ে বগুড়া যাওয়ার জন্যে রাস্তাটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে এলাকার কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ জণগন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রাণীনগরের ওহিদুল ইসলাম মিলন, বাসার, চঞ্চল, উজ্জল হোসেন ও সেজাউদ্দীনসহ বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, এই রাস্তাটির নির্মান কাজ শেষ হলে কৃষিপণ্য সরবরাহ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যাপক সুবিধা পাওয়া যাবে আর সেই সাথে ঢাকার দুরত্ব কমবে প্রায় ৬০ কিলোমিটার।

এ বিষয়ে (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি বাস্তবায়নের জন্য গত সাত বছরে সংসদে এগারোবার দাবি উত্থাপন করেছি। প্রকল্পটি বাবস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সাথে যারা জড়িত রয়েছেন তাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। আশা করছি, আরো সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রকল্পটির কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে।
নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হামিদুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সময়ের ব্যবধানে এই প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। আর এজন্য নতুন করে প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এটি দ্রুত পাশ হবে বলে আশা করছেন তিনি।


বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

up-arrow