Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ২ মার্চ, ২০১৭ ১৮:৫০ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২ মার্চ, ২০১৭ ১৮:৫২
সাভারের অসহায় পরিবারটিকে নিরাপত্তা দেবে কে?
নাজমুল হুদা, সাভার:
সাভারের অসহায় পরিবারটিকে নিরাপত্তা দেবে কে?
নুরু গাজী

নুরু গাজী (৬০)। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই মানুষটির এখন একটাই শান্তি- তা হল স্ত্রী হত্যার ন্যায় বিচার পেয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ ১৩ বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরে ঘুরে অকালে হারানো স্ত্রী হত্যার বিচার পেয়েছেন এটাই যেন তার পরম পাওয়া। কিন্তু তার এই প্রাপ্তিকে স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি পরিবহন শ্রমিক এবং অভিযুক্তের স্বজনরা। নিজ বাড়িতেই এখন নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন নুরু গাজী এবং তার পরিবারের সদস্যরা।  

২০০৩ সালের ২০ জুন সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার ঝাউচর গ্রামে নিজ পারিবারিক রাস্তায় নুরু গাজীর স্ত্রী খোদেজা বেগমকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করে প্রতিবেশী ট্রাক চালক মিরু হোসেন মিরু। এ ঘটনায় গত সোমবার ঢাকার একটি আদালত মিরু হোসেনের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। রায় ঘোষণার পর সারাদেশের নরাজ্য চালিয়ে ও যাত্রীদের মত ঝাউচর গ্রামেও নুরু গাজীর পরিবারকে জিম্মি করে ফেলেছে ট্রাক চালক মিরু হোসেনের আত্বীয় স্বজন এবং স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকরা। এমনকি ঘটনার বর্ণনা যেন আর কোন গণমাধ্যমে প্রকাশ না হয় সেজন্য ভুক্তভোগী পরিবারটিকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতেও বাধা দেয়া হচ্ছে।  

এ বিষয়ে নুরু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রায় ঘোষণার পরেই মিরু ড্রাইভার আমাকে বাঁচতে দিবেন না বলে আদালতেই হুমকি দেন। এখন সেটি বাস্তাবায়ন করছে স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক এবং মিরুর আত্বীয় স্বজনরা। তারা আমার বাড়ির চতুর্দিকে পাহারা বসাইছে। যেন আমি বাড়ি থেকে বের হতে না পাড়ি। আবার আমার সঙ্গে দেখা করতে আসা সাংবাদিকদেরকেও তারা বাধা দিচ্ছে। গত তিন দিন ধরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা। মিরুর আত্বীয় স্বজন এবং অচেনা মানুষরা একেক সময় বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছে আর প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
 
নুরু গাজীর ছেলে বিল্লাল হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ১৩ বছর ধরে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল। এই সময়ের মধ্যে মিরু জামিনে এলাকায় ছিলেন। প্রায় সময় সে মদ্যপ অবস্থায় এসে আমাদের উপর অত্যাচার চালাতেন। মামলা তুলে নেয়ার জন্য বারবার হুমকি দিয়েছেন। এখন রায় ঘোষণার পর মিরুর আত্বীয় স্বজন আমাদের পিছে উঠে পড়ে লেগেছে। জিম্মি করে ফেলেছে আমাদের। আমরা এখন হরিণের মত বাঘের রাজ্যে বাস করছি।
 
নুরু গাজীর প্রতিবেশী সলিম মিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড হলেও সড়ক দুর্ঘটনায় পরিণত করতে অনেক চেষ্টা করেছে ট্রাক চালক মিরু হোসেন। এখনো সেই চেষ্টা অব্যহত রেখেছে তার আত্বীয়-স্বজন এবং স্থানীয় শ্রমিকরা। নুরু গাজীর পরিবারটি সত্যিই নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
 
জানা গেছে, রায় ঘোষণার পর খোদেজা বেগমের স্বামী নুরু গাজীকে বুধবার রাতের একটি টক শো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে তার বাড়িতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যালেন এটিএন নিউজ গাড়ি পাঠিয়ে দেয়। গণমাধ্যম কর্মী আসার খবর পেয়েই নুরু গাজীর বাড়ি ঘেরাও করে ট্রাক চালক মিরুর আত্বীয় স্বজন এবং মিরুর সহকর্মী ট্রাক চালক শ্রমিকরা। টকশো অনুষ্ঠানে মিরু গাজীকে না যেতে দেয়ার পাশাপাশি ওই টেলিভিশনের গাড়িটিও ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় মিরুর সহকর্মী ট্রাক চালকরা। পরে সেখান থেকে মিরু গাজীকে ছাড়াই ফিরে যায় টেলিভিশন চ্যানেলটির পাঠানো গাড়ি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেলিভিশন চ্যানেলটির সাভার প্রতিনিধি জাহিদুর রহমান।  
 
এমন পরিস্থিতিতে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোন অভিযোগ পাইনি। তবে পরিবারটির নিরাপত্তা জন্য পুলিশ দেখার জন্য পাঠানো হয়েছে।  

এ বিষয়ে রাষ্টপক্ষের আইনজীবি গোলাম দস্তগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মামলার বাদী নুরু গাজীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় পুলিশের সজাগ হওয়া উচিত। এ বিষয়ে আদালতের কি করণীয় আছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

ভয় দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাক চালক মিরুর ভাই রিপন হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এই ঘটনায় চক্রান্ত করে মিরুকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে নুরু গাজী। এর জন্য তার উপর এলাকার পরিবহন শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত। গণমাধ্যমের উপর হামলার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা খালি এক পক্ষের কথা টিভিতে প্রচার করে। এই জন্য এলাকার সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়েছে।  

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার

আপনার মন্তব্য

up-arrow