Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ৩ মার্চ, ২০১৭ ১০:০৯ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
বিদেশি সবজি চাষে ভূমিহীন সাইফুলের দিনবদল
সরকার হায়দার, পঞ্চগড়:
বিদেশি সবজি চাষে ভূমিহীন সাইফুলের দিনবদল

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়  বিদেশি জাতের বিভিন্ন সবজি চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ভূমিহীন কৃষক সাইফুল ইসলাম। গত সাত বছর ধরে তিনি বিদেশি জাতের সবজি চাষ করছেন।

চাষের জন্য নিজের জমি না থাকলেও জমি বন্ধক  নিয়ে তিনি এই সবজি উৎপাদন করছেন। তার জমির উৎপাদিত এই সবজি চলে যাচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে মাগুড়া গ্রামের শেখ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৩) স্থানীয় এক অধিবাসীর ৫ বিঘা জমি বন্ধক নিয়েছেন । এই জমিতে রয়েছে আমবাগান । আমবাগানের নিচেই তিনি বিদেশি সবজি চাষ করছেন। তার আরও ৩ বিঘা জমির উপর অপর আরেকটি বিদেশি সবজির ক্ষেত  রয়েছে । তিনি মোট ২৫ প্রকারের  বিদেশি সবজি আবাদ করেছেন।

কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তিনি আইসবাক, সালাত পাতা, ল্যাটুস পাতা, রোমান ল্যাটুস,ব্রুকলি, লোসিডিসিও, ফ্যানেল, পাসলি, বেসলি, বিট, রুবার, বেড ফিপেস, সিলারী, ফ্লাট পাসলি, হলুদ ঝুকিনি, সবুজ ঝুকিনি, কালি পাসলি, ক্যাপসিক্যাম, পবিকন, ফ্রাইজিং সহ  আরও নানা প্রকারের সবজি চাষ করেছেন। এই সবজির বীজ  তিনি সংগ্রহ করেন ঢাকা থেকে।

কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, আট-নয় বছর আগে তিনি বিদেশি সবজি চাষ  করে এরকম একটি কৃষি ফার্মে কাজ করেছিলেন। সেখানেই তিনি এই সবজির চাষ পদ্ধতি শিখে নেন। পরে বাড়ি  ফিরে নিজেই সবজির আবাদ শুরু করেন। স্থানীয়ভাবে বিদেশি সবজির বাজার না থাকায় প্রথম দু'বছর খুব বেশি সাফল্য পাননি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ সারাদেশের অলিগলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য চাইনিজ, মিনি চাইনিজ, থাই রেস্টুরেন্ট। আর এখানেই সাইফুল ইসলামের সবজির চাহিদা। দামও দেশি সবজির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।

সাইফুল জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সবজি ব্যবসায়ীরা এখন তাকে অাগাম টাকা  দিয়ে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম থাকলেও ঢাকায় এই সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই আগামী বছর তিনি আরও ৫ বিঘা জমিতে বিদেশি সবজির আবাদ করবেন। তিনি জানান, তেঁতুলিয়ার বেলে দোঁয়াশ  মাটি এবং আবহাওয়া উভয়ই বিদেশি সবজি চাষের উপযোগী। রাসায়নিক সার এবং  কিটনাশক ব্যবহার না করলেও চলে।
 
তিনি বলেন, আট বিঘা জমিতে সবজি চাষে তার খরচ হয় মাসে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। প্রতিবছর খরচ বাদ দিয়ে তিনি আয় করেন দেড় থেকে দুই লাখষ টাকা। এতে তার সংসারের খরচ মিটিয়ে জমাও করতে পারছেন কিছু। তবে নিজে বাজারজাত করতে পারলে আরও লাভ হতো বলে ধারণা সাইফুলের। শূন্য থেকে পথচলা শুরু হলেও সাইফুল ইসলাম এখন কুঁড়েঘর  থেকে নির্মাণ করেছেন পাকা বাড়ি।

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

up-arrow