Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ৩ মার্চ, ২০১৭ ২১:৩৭ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বসেছে সাধুদের মিলন মেলা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বসেছে সাধুদের মিলন মেলা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বিনায়েকপুর মাঠে বসেছে সাধুদের মিলন মেলা। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধুরা এসে ভাব বিনিময় করছেন একে অপরের সাথে।

আর রাত যত বাড়ে মানুষের মিলন মেলাও ততো বাড়ে।  

আয়োজকরা বলছেন, অনন্য মানুষ তৈরীর চেষ্টা হিসেবেই তাদের এ আয়োজন। আর মিলন মেলা দেখতে আসা সকল অতিথিই একসাথে আহার করেন আর ভাবেন মানুষে মানুষে কোন ভেদ নেই। সাধুরা বলছেন মিলন মেলায় মানুষে মানুষে ভাব বিনিময় করে তারা আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়।  

আয়োজক কমিটির সদস্য সাহান আহমেদ জানান, গত বছরের ন্যায় বিনায়েক সাধু সংঘের উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে সাধুদের মিলন মেলা। বৃহস্পতিবার রাতে সাধু মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সন্দীপ কুমার। এ সময় আলোচনা এম. আকবর আলি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শামীম হাসান, উল্লাপাড়া মার্চেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মীর আব্দুল হান্নান ও সলঙ্গা দলিল লেখক সমিতির সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল।  

এই মিলন মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধুরা অংশগ্রহন করেন। রাতভর চলে বাউল গান-লালন সঙ্গীত। মিলন মেলায় উল্লাপাড়াসহ আশপাশের কয়েক সহশ্রাধিক নারীপুরুষ অংশগ্রহন করেন। মেলা উপলক্ষে এলাকায় গ্রামীন মেলাও বসেছে। মিলন মেলায় কুষ্টির লালন একাডেমীর শিল্পী লিনা ও আসলামসহ বিভিন্ন এলাকার বাউলরা গান পরিবেশন করেন।  

সাধু সোহরাব হোসেন গুরু, নজরুল ইসলাম গুরু, ইসমাইল হোসেন গুরু ও ফজুলল হোসেন জানান, একেকজন সাধু একেক ভাবে মত্ত। ভিন্নভিন্ন মতের মানুষ হলেও বছরের এই সময়টা তারা সবাই একত্রিত হন, নিজেদের ভাব একে অপরের সাথে বিনিময় করেন। এতে তাদের আত্বিক বন্ধনের সৃষ্টি হয়। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ কমে যায়। যারা সমাবেশে আসেন তারা সাধুদের আদর্শ গ্রহন করে নিজেদের মধ্যকার ধনী-গরীব বিভেদ ভুলে যায়। এরকম অনুষ্ঠানে মানুষের বন্ধনের সিঁড়ি তৈরী হয়। এতে সমাজে হানাহানি কমে যাবে বলেও সাধুরা মনে করেন।
   
আয়োজক শাহ ফরিদ ও  শাহা তালেব হোসেন জানান, এ মিলন মেলায় যারাই অতিথি হয়ে আসেন তারাই সকলেই সাথে একত্রে খাবার খান। এতে মানুষের মধ্যে ভাতৃত্ববোধ তৈরী হবে, দূর হবে হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ। সরকারী-বেসরকারী সহায়তা পেলে এ মিলনমেলা আরো বড় আকারে করা সম্ভব।  


বিডি-প্রতিদিন/ ৩ মার্চ, ২০১৭/ আব্দুল্লাহ সিফাত-১৪

আপনার মন্তব্য

up-arrow