Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ৫ মার্চ, ২০১৭ ১৮:২১ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
নলছিটিতে স্কুল ছাত্রী নির্যাতন
রেজাউলকে আটকের পর গভীর রাতে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

রেজাউলকে আটকের পর গভীর রাতে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

নলছিটিতে নারী নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও ভিডিও ধারণের অপরাধে আটকের পর পৌর মেয়র তসলিম চৌধুরীর ভাতিজা রেজাউল চৌধুরী ওরফে খোজা রেজাউলকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর র‌্যাবের হাতে আটক থেকে বাঁচাতে রেজাউলকে থানায় নিয়ে আটকের নাটক সাজায় নলছিটি থানার পুলিশ কর্তারা।

এ নিয়ে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।  

জানা গেছে, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এক স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীকে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এটি ফেইসবুকে লাইক, কমেন্টস ও শেয়ারের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেলে রেজাউলসহ ওই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের আটক ও শাস্তির দাবিতে ফেইসবুকে ঝড় ওঠে।  

বরিশালের র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা জানতে পেরে রেজাউলসহ অন্যান্য অপরাধীদের আটকের চেষ্টায় নলছিটিতে আসে ও অপরাধীদের খোঁজাখুঁজি শুরু করে।  

অবস্থা বেগতিক দেখে র‌্যাবের হাতে আটক ঠেকাতে পুলিশ নাটক করে নলছিটি থানার একজন উপ-পরিদর্শকের মাধ্যমে রেজাউলকে শুক্রবার সন্ধ্যায় থানায় নিয়ে আসে। নলছিটি থানার ওসি (অপারেশন) একেএম সুলতান মাহমুদ ও ওসি (তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন তপুর নির্দেশনায় এ আটক করা হয়।  

রাতে র‌্যাব নলছিটি থেকে ফিরে গেলে রাত ২টার দিকে নলছিটি পৌরসভার এক কাউন্সিলরের মধ্যস্থতায় রেজাউলকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে রেজাউলকে পুলিশ ছেড়ে দেয়।  

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রেজাউলের বিরুদ্ধে এক যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টাসহ নলছিটি একাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে। ইয়াবা ব্যবসায়ী এই রমিজ পুলিশের হাতে আটক হয়ে বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন। নলছিটি থানার সাবেক ওসি আবুল খায়ের বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ তাকে সর্বশেষ গ্রেফতার করেন। এরপর রমিজকে ধরতে আর কোন অভিযান পরিচালনা করেনি পুলিশ।  

রেজাউল নিজেকে নলছিটি উপজেলা আ'লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র তছলিম উদ্দিনের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করে বেড়ান বলে এলাকাবাসীরা জানান।  

রেজাউলকে আটকের ব্যাপারে নলছিটি থানার ওসি(তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেজাউলকে থানায় আনা হয়েছিল। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগকারী না পাওয়ায় রেজাউলকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যপারে ঝালকাঠি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব বলেন, রেজাউল অপরাধ স্বীকার করেছে। তবে হয়রানির শিকার ওই ছাত্রীর পরিচয় না পাওয়ায় রেজাউলকে আইনের আওতায় আনা যায়নি।  


বিডি প্রতিদিন/৫ মার্চ, ২০১৭/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

up-arrow