Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ৬ মার্চ, ২০১৭ ১৮:২৮ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
মেহেরপুরে পুলিশের তাড়ায় নদীতে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে পুলিশের তাড়ায় নদীতে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার রসিকপুরে পুলিশের তাড়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আলমগীর হোসেন (৪৫) নামের এক আম ব্যবসায়ী মারা গেছেন। রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও সোমবার সকাল ৮টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

নিহত আলমগীর হোসেনের বাড়ি ভোলার ইলিশ জংশন এলাকায়। সে দুই সপ্তাহ আগে মুজিবনগরের রসিকপুর গ্রামের মেয়ের জামাই আমিরুল ইসলাম ওরফে ফুলবাশের বাড়িতে ব্যবসা করার জন্য এসেছিলেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, আলমগীর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন লোক রসিকপুর গ্রামের ভৈরব নদের ধারে মোতালেবের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। ঘটনার সময় মুজিবনগর থানার এস আই আবু তাহেরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে জুয়াড়ি ধরতে অভিযান চালায়। এসময় আলমগীর হোসেন, রেজাউল হোসেন ওরফে খোকন ও জাহান আলী পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভৈরব নদীতে ঝাঁপ দেন। আলমগীর হোসেন সাঁতার না জানার কারণে নদীতে ডুবে যান। খোকন ও জাহান সাঁতরিয়ে নদীর ওপারে উঠে পালাতে গেলে পুলিশ ওদিক থেকেও ধাওয়া দিলে তারা নদীর মাঝখানে ভাসমান অবস্থায় অবস্থান করে। কিছুক্ষণ পর খোকন ও জাহান এপারে উঠলে পুলিশ তাদের আটক করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

আলমগীর হোসেনের মেয়ের শ্বশুর আনিসুর রহমান বলেন, আমার বেয়াইয়ের কোনো বাজে অভ্যাস নেই। তিনি ১০ থেকে ১২ বছর ধরে আমাদের এখানে আমের সময় ব্যবসা করতে আসেন। সেই থেকে পরিচয়ের মাধ্যমে চার বছর আগে তার মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে দিই। এবারও সপ্তাহ দুয়েক আগে তিনি এলাকায় আমের ব্যবসা করার জন্য এসেছিলেন। গতকাল চায়ের দোকানে গিয়ে পুলিশের তাড়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। পরে এলাকার মানুষজনের হৈ চৈ শব্দে বুঝতে পারি তার বেয়াই নদীর পানিতে ডুবে গেছেন। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সকালে গ্রামের সুইচ গেট এলাকায় তার লাশ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
 
এদিকে লাশ উদ্ধারের পর পর মেহেরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আহসান হাবিব, মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামাল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এসময় পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করলে নিহত আলমগীরের মেয়ে জামাইসহ স্বজনদের তোপের মুখে পড়ে পুলিশ। পরে সহকারী পুলিশ সুপার তাদের বিষয়টি পরিস্কার করলে তারা লাশ মর্গে পাঠানোর অনুমতি দেয়।

স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে জানান, পুলিশ বেশ কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন বেশে এসে সাধারণ মানুষদের হয়রানি করে চলেছে। যাকে তাকে আটক করে যে কোন মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে।

স্থানীয় মোনাখালী ইউপি সদস্য জহির উদ্দিন বলেন, জুয়া আর মাদকের নামে পুলিশ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। আলমগীর হোসেন অন্য এলাকার মানুষ হলেও দীর্ঘদিন তার এখানে যাতায়াতের কারণে তিনি এলাকায় ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনিসহ তিনজন পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভৈরব নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। পুলিশ তাদের বাঁচানোর চেষ্টা না করে বরং বারবার তাড়া দেওয়াতে তারা উপরে উঠতে পারেনি। সাঁতার না জানার কারণে আলমগীর হোসেন ডুবে মারা গেছেন।

মেহেরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আহসান হাবিব বলেন, গোপন সংবাদ ছিল সেখানে জুয়া খেলা হচ্ছে। এমন একটি সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে যারা ছিল তারা যে যেভাবে পেরেছে পালিয়েছে। এদের মধ্যে আলমগীর হোসেন নদীতে পড়ে ডুবে মারা গেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ দু'জনকে আটক করলেও তাদের কাছে কোনো টাকা পয়সা ও অন্য কিছু না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

up-arrow