Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ৯ মার্চ, ২০১৭ ২১:১৯ অনলাইন ভার্সন
জনবিচ্ছিন্ন বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তি নিয়ে উৎকণ্ঠা
উখিয়া প্রতিনিধি:
জনবিচ্ছিন্ন বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তি নিয়ে উৎকণ্ঠা
bd-pratidin

উখিয়ার বালুখালী বনভূমিতে গড়ে তোলা রোহিঙ্গা বস্তি নিয়ে জনমনে নানা উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। গভীর বনাঞ্চলে সম্প্রতি গড়ে ওঠা জনবিচ্ছিন্ন এ রোহিঙ্গা বস্তিটি মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার নতুন আখড়া বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

উখিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কি.মি. দূরে বালুখালী পানবাজার থেকে প্রায় দুই কি.মি. পশ্চিমে গভীর বনাঞ্চলের মধ্যে সৃজিত সামাজিক বনায়ন উজাড় করে সম্প্রতি গড়ে তোলা হয় এ রোহিঙ্গা বস্তি। এ বস্তিতে যাতায়াতের একমাত্র পথ বালুখালী পানবাজার থেকে কিছু অংশ ইট বিছানো গ্রামীন রাস্তা, বাকি অংশে কোন রাস্তা নেই। এ পথটুকু হেঁটেই যাতায়াত করতে হয় বস্তি পর্যন্ত। ফলে এখানে নির্ভয়ে চলে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা। অনেক দাগি আসামিও এখানে ঘাপটি মেরে আছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

পক্ষান্তরে উখিয়ার অপর রোহিঙ্গা ক্যাম্প কুতুপালংয়ের অবস্থান উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কি.মি. দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক সংলগ্ন। এখানে যে কারো সহজে যাতায়াত করা সম্ভব। কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরের তত্বাবধানের জন্য সরকারের একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে রয়েছে সশস্ত্র পুলিশ, আনসার দস্যরা। এছাড়াও কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির ও বস্তির কয়েকশত গজের ব্যবধানে রয়েছে কচুবনিয়া বা উত্তর ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ি ও উখিয়া টিভি উপকেন্দ্র। কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির ও বস্তিতে বর্তমানে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গার অবস্থান। এটি মোটামুটি কিছুটা সরকারের নিয়ন্ত্রনে থাকার পরও এখানে অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবাসহ সব ধরণের মাদকের কারবার ও অসামাজিক কার্যকলাপসহ জঙ্গিদের আনাগোনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু যাতায়াত ও নিরাপত্তা বিচ্ছিন্ন বালুখালীর গহীন বনাঞ্চলে অতি উৎসাহী হয়ে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি ও তার মাদক পাচারকারী বাহিনী অজ্ঞাত উৎসের অর্থায়নে নতুনভাবে আরও একটি রোহিঙ্গা বস্তি স্থাপন করায় স্থানীয় লোকজন, প্রশাসন ও দায়িত্বশীল মহল উদ্বিগ্ন।
 
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল কাদের ভুট্টো, বালুখালী এলাকার প্রবীন ব্যক্তি রওশন আলী, উখিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা জাফর ইকবাল, উখিয়া ছাত্রলীগ নেতা মো. ইব্রাহীমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন মানুষ বালুখালীর পাহাড়ি জঙ্গলে রোহিঙ্গা বস্তি স্থাপনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, মিয়ানমার সীমান্তের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে উঠেছে বালুখালী নতুন রোহিঙ্গা বস্তিটি। এ কারনে রাতের আধারে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করে পরেরদিন আবার মিয়ানমারে চলে যায় এতে কোন সমস্যা হয় না তাদের। এ সুযোগে কিছু ইয়াবা ব্যবসায়ী ইয়াবা নিয়ে অনুপ্রবেশ করে বালুখালী নতুন বস্তিতে অবস্থান নেয়, পরে সুযোগ বুঝে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে থাকে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারনে এমনিতে কিশোর-যুবক, অনেক বিবাহিত/অবিবাহিত পুরুষদের নিয়ে নানাভাবে সামাজিক, পারিবারিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সেগুলোর কারনে অনেক পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছে, যা সমাজের সর্বত্র প্রভাব ফেলছে। বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তিকে ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয় কিশোর-যুবকদের যাতায়াত বাড়ছে। বস্তি স্থাপনের ভূমিকা পালনকারীরা এলাকায় চিহ্নিত ইয়াবা পাচারকারী সন্ত্রাসী। দেশ-বিদেশের অজ্ঞাত উৎসের অর্থে রোহিঙ্গা বস্তিটিকে বালুখালীতে স্থায়ী করতে পারলে এখানে ওই চক্রের দুইটি উদ্দেশ্য সফল হবে। তার মধ্যে দেশি-বিদেশি জঙ্গিদের ঘাঁটিতে পরিণত করে স্থানীয় কিশোর ও যুবক সমাজকে ধ্বংস করাই তাদের মূল লক্ষ বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow