Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ১৪ মার্চ, ২০১৭ ১৮:২৪ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
পুলিশের অভিযানে পুরুষশূন্য গ্রাম, আতঙ্কে পরিবার
আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও :
পুলিশের অভিযানে পুরুষশূন্য গ্রাম, আতঙ্কে পরিবার

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের  টেংরিয়া দিলগাঁও গ্রাম। এখানে পুলিশের অভিযানে শতাধিক পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এখন ঘর-বাড়ি ছাড়া।

এতে শিশু সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে এ গ্রামের নারীরা। সংসারে আয় রোজগার না থাকায় অর্ধহারে-অনাহারে মানবেতর দিনযাপন করছে এই অসহায় পরিবারগুলো। হয়রানি আর আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নারী ও শিশুরা। আর দিনে শুধু ওই গ্রামে কাঁন্না আর আহাজারি। অসহায়দের পাশে কেউ  না থাকায় কাঁন্নার রোল থামছে না। অচেনা লোককে দেখলেই মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে।

গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি সকালে পাশের গ্রাম লেহেম্বার কুলিক নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।  এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিরেশ চন্দ্র রায় (৩৫) মারা যান। এ ঘটনায় নিরেশের ভাই মহেন্দ্র নাথ রায় বাদী হয়ে দিলগাঁও গ্রামের ৭ জনকে আসামি করে রানীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের করেন। এজাহার ভুক্ত আসামীদের খুঁজে না পেয়ে পুলিশ গ্রামবাসীদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এছাড়া মামলা রাণীংশকৈল থানায় হলেও আসামি হরিপুর থানায়। তাই প্রতিদিন দুই থানার অভিযানে অতিষ্ট এলাকাবাসী। ভয়ে বাসায় কোন পুরুষ মানুষ থাকছে না ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুই থানা পুলিশের হয়রানি ও গণগ্রেফতারের ভয়ে ওই গ্রামের পুরুষরা বাড়ি ছেড়েছে। দুলালী বেগমের স্বামী নাসিরুল ইসলাম পনের দিন ধরে পরিবার ছেড়ে লাপাত্তা হয়েছে। দুলালী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার স্বামী পেশায় দিনমজুর। পাশের গ্রামের মানুষের বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে  তিন মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন। সে (নাসিরুল) না থাকায় শিশু সন্তানদের নিয়ে দারুণ কষ্টে আছি।  

একই কষ্টের কথা জানালেন, মোকসেদা বেগম। তিনি বলেন, দুই ছেলে ঢাকায় লেখা পড়া করে। এক ছেলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে এলাকার একটি স্কুলে। তার স্বামী সলিমউদ্দিনও দিনমজুর। আয় রোজগার না থাকায় টাকা পাঠাতে পারছে না মোকসেদা। গ্রামের আবুল হাসেম ও স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে ফেলে বাড়ি ছেড়েছেন। তার বড় মেয়ে হুসনে আরা দশম শ্রেণীর ছাত্রী। হুসনে আরা জানান, বাবা না থাকায় লেখা পড়ার খরচ বন্ধ হয়েছে। এ কারণে সে আর স্কুলে যাচ্ছে না। একই অবস্থার শিকার এই গ্রামের অনেক পরিবার।  

স্কুল শিক্ষক শওকত আলী জানান, তার গ্রামের মসজিদে ভয়ে কেউ নামাজ পড়তে যায় না। হাট বাজারে লোক সমাগম কমে গেছে। তিনি আরো বলেন, পুরুষরা বাড়িতে না থাকায় ক্ষেত খামার নষ্ট হচ্ছে।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভাতুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি না করতে পুলিশকে অনুরোধ করেছেন।  

এ প্রসঙ্গে রাণীশংকৈল থানার ওসি রেজাউল করিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমরা কি কাউকে পাহারা দিয়ে বাড়িতে রাখবো?

অপরদিকে হরিপুর থানায় ওসি কুদ্দুস জানান, আসামি ধরতেই এসপি স্যারে নির্দেশে ওই গ্রামে প্রতিদিন অভিযান চলছে। কোন হয়রানি করা হচ্ছে না।

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাদ আহম্মেদ জানান, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। আসামি ধরতে আমার পুলিশ চেষ্টা করছে।  

 

বিডি প্রতিদিন/১৪ মার্চ ২০১৭/হিমেল

আপনার মন্তব্য

up-arrow