Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ১২:৩৫ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ১২:৩৮
ঠাকুরগাঁওয়ে উদ্ধার মাদকগুলো কোথায় যায়?
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে উদ্ধার মাদকগুলো কোথায় যায়?
প্রতীকী ছবি

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও পুলিশ প্রশাসনের মাদক বিরোধী অভিযানে সুফল পেতে শুরু করেছে জেলাবাসী। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি বন্ধ হয়েছে অনেকটা।

এই অভিযানে ইতোমধ্যে জেলা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীও গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হলেও জমা দেখানো হচ্ছে অল্পকিছু। পুলিশই বাকিগুলো ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে যা পরে হাত ঘুরে ফের বাজারে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুদ্র মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে ডিবি পুলিশ এমন কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী। এ পরিস্থিতিতে স্বস্তির পাশাপাশি উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সুধী সমাজ।

পুলিশের তথ্য মতে, চলতি মার্চ মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও জেলার ৬টি থানায় ৫২ জনকে আসামি করে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত ৩৯টি মামলা দায়ের করা হয় এবং মাদকদ্রব্য মামলায় ৪৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৪ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ভারতীয় ফেনসিডিল, ভারতীয় মদ, নেশাজাতীয় ইনজেকশন, নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা, চোলাইমদ, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

এরমধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মাদকদ্রব্যের ১৮টি মামলা ও ১৯জন গ্রেফতার, ডিবিপুলিশের মাধ্যমে ১৩টি মামলা ও ১৬জন গ্রেফতার, রুহিয়া থানায় ২টি মামলা ও ২জন গ্রেফতার, বালিয়াডাঙ্গী থানায় ৪টি মামলা ও ৫জন গ্রেফতার, পীরগঞ্জ থানায় ৬টি মামলা ও ৬জন গ্রেফতার, রাণীশংকৈল থানায় ৭টি মামলা ও ৭ জন গ্রেফতার এবং হরিপুর থানায় ১টি মামলা ও ২ জন গ্রেফতার হয়।

ডিবি পুলিশের কাছে ধরা পড়া মাদক ব্যবসায়ী রানীশংকৈলের আসাদুজ্জামান আসাদ ওরফে পিচ্চি আসাদ জানান, পুলিশ আমার কাছ থেকে ২৫০ পিছ ইয়াবা পেয়েছে কিন্তু মামলায় ১শ’ দেখাইছে।

মাদক ব্যবসায়ী আসাদের মত অনেক ব্যবসায়ী এই রকম তথ্য জানিয়েছে এই প্রতিবেদকের কাছে। বিভিন্ন মহলে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের ধরলে তাদের থেকে টাকা নিয়ে দুর্বল মামলা দিচ্ছে। তখন যে পরিমান মাদক ধরা হচ্ছে জমা দেখানো হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম। অনেক সময় মাদক ব্যবসায়ীকে দেখানো হচ্ছে মাদকসেবী হিসেবে। সেইসব মাদক আবার পুলিশের হাত ঘুরে ঢুকছে বাজারে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও ডিবি পুলিশের ভার্রপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি কথাটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, মাদকদ্রব্য কম আর বেশির বিষয়টির থেকে আসামি গ্রেফতার গুরুত্বপূর্ণ।

জানা গেছে, পুলিশের তালিকামতে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় সাড়ে ৫শ’ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। পুলিশ এসব মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অনেক সময় ওইসব মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের রুখতে ঠাকুরগাঁও পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তারা সফল বলে দাবি পুলিশের।

শহরের খালপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, আগে যেখানে সেখানে দিনদুপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের মাদকদ্রব্য বিক্রি করতে দেখা যেত। এতে যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। বর্তমানে পুলিশের তৎপরতায় জেলায় মাদক ব্যবসা অনেকাংশে কমে গেছে। কিন্তু টাকার বিনিময়ে কিছু খুচরা ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিচ্ছে, এটি দুঃখজনক। আমরা ঠাকুরগাঁওবাসী চাই এই জেলা যেন মাদকমুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে।

পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ বলেন, জেলার মাদক ব্যবসায়ীরা আতংকে রয়েছে। জেলায় প্রতিদিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে করে মাদকব্যবসায়ী কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। আমরা যেভাবে কাজ করছি এতে খুব শীঘ্রই ঠাকুরগাঁও জেলা মাদকমুক্ত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow