Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : ১৯ মার্চ, ২০১৭ ১৬:৩১ অনলাইন ভার্সন
পাহাড়ের ওরা যেভাবে জঙ্গি হয়ে ওঠে
বান্দরবান প্রতিনিধি:
পাহাড়ের ওরা যেভাবে জঙ্গি হয়ে ওঠে

সীতাকুণ্ডে অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিনে নিহত ৪ জঙ্গি ও এক শিশুর মধ্যে নিহত ২ জঙ্গি ও  শিশুর বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে। পাশাপাশি পর দিন মঙ্গলবার আটক ৩ মাসের শিশু জুবাইরসহ জঙ্গি দম্পতি জহিরুল হক ওরফে জসিম ও রাজিয়া সুলতানা ওরফে তানজিনা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর জানা গেছে তারাও একই এলাকার।

এর গত ক’ দিন আগে কুমিল­ার চান্দিনায় পুলিশি অভিযানে আহত অবস্থায় আটক ছুরুত আলম ওরফে নায়ক হাসানের বাড়িও এই বাইশারীতে। হাসানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ডে অভিযান চালানো হয়। বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলম কোম্পানি জানান, তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, এদের সকলের বাড়িই নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ১৯ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে নিহত কামাল দম্পতিসহ সব অঘটনের মূল তথ্য দাতা নায়ক হাসান ওরফে ছুরুত আলমের বাড়ি উত্তর বাইশারীর থোয়াইলং পাড়া সংলগ্ন ৪ নম্বর লম্বাবিল গ্রামে। জঙ্গলাকীর্ণ একটি টিলার উপর মাটির দেওয়ালে টিনের ছাউনিতে করা বাড়িতে ছুরুত আলম ওরফে হাসান ওরফে জগতের ভাগিনার মা-বাবা, ভাই-বোন সকলে এক সাথে বাস করেন।

ছুরুত আলমের মা ফাতেমা খাতুন এ জানান, তার ছেলে জঙ্গি হবে এ কথা বিশ্বাসও করতে পারছেন তিনি। তিনি এ-ও বলেন, তার অবিবাহিত ছেলে চালের দোকান বন্ধ করে দিয়ে কেনই বা এ ধরনের কাজে যোগ দিল তারা ভেবেও কুল পাচ্ছেন না।

পুলিশের হাতে আটক জহিরুল হক ওরফে জসিমের বাড়ি বাইশারী ইউনিয়নের যৌথ খামার বাড়ি এলাকায়। ৬৫ বছর বয়সী জহিরুলের পিতা নুরুল আলম ও মা জান্নাত আরা জানান, তাদের সংসারে রয়েছে মোট ১২ সন্তান।

সীতাকুণ্ডের পুলিশের হাতে আটক জহিরুল এদের মধ্যে তৃতীয়। তারা আরো বলেন, তাদের সন্তান জহিরুল হক ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়া -লেখা করেছে বাইশারী শাহ নুর উদ্দিন দাখিল মাদরাসায়। এর মধ্যে সে কয়েক চিল্লা তবলিগে গিয়েছিল। নিয়মিত নামাজ-দোয়া পড়তো। তারা আরো জানান, ছুরুত আলম ওরফে হাসানই তাদের ছেলেসহ অন্যান্যদের জেএমবিতে নাম লিখিয়েছে। পাশাপাশি পুলিশে আটক রাজিয়া সুলতানার মা সাবেকুন্নাহার জানান গত ৩ মাস আগে তার মেয়ে রাজিয়াকে চিকিৎসা করানোর কথা বলে ১১ দিনের শিশু সন্তান জুবাইরকে কোলে নিয়ে তার মেয়ে জামাই ককসবাজারের ঈদগাঁতে ডা: সুমাইয়া’র কাছে নিয়ে যায়। এর পর তার মেয়ে এবং আদরের নাতীকে সে আর দেখে নি। যদিও এ বিষয়ে তার নিজ জামাই জহিরুল হকের বিরুদ্ধে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম ও নুরুল আজিম মেম্বারকে মৌখিক অভিযোগও দিয়েছিলেন সে সময়।

কিন্তু তার স্বামী মালয়েশিয়া থাকায় এ বিষয়টি নিয়ে কেউ আর কিছু করে করেনি তখন। এরই মধ্যে পুলিশের হাতে তারা আটক হয় গত ১৬ মার্চ বৃহস্পতিবার।
সীতাকুণ্ডের চৌধুরী পাড়া এলাকার ছায়ানীড়ে গড়া আস্তানায় আত্মঘাতি ও পুলিশের গুলিতে নিহত কামাল হোসেন, স্ত্রী জোবাইদা ইয়াছমিন এবং ৮ মাস বয়সের শিশু সন্তান ইমাম হোসেন এর বাড়ি বাইশারী যৌথখামার কুমির ঘোনা এলাকায়।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে গহীন অরন্যে কামাল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে জানতে চাইলে তার মা ওয়াজ খাতুন জানান, তার সন্তান বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার কিছুদিন পর জহিরুল হক তাকে প্রথম দফায় ২ শত টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৩টি ১ হাজার টাকার নোট দিয়ে চলে যান এবং তার জন্য দোয়া করতে বলেন।
এদিকে বাইশারী এলাকার সাবেকুন্নাহারের আত্মীয়-স্বজনরা বলেন, জুবাইর হাসানের বয়স মাত্র ৩ মাস। তার মাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় হাসান, কামাল ও জহিরুল হক। এখন নারী ও শিশুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে যে জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে তা অমানবিক।

এদিকে শনিবার বিকেলে জঙ্গি কামাল হোসেন ও জহিরুল হকের পিতা যথাক্রমে মোজাফ্ফর আহমদ (৭০) ও নুরুল আলমকে (৬৫) পুলিশি তত্বাবধানে সীতাকুণ্ডে আত্মঘাতী বোমায় নিহত কামাল হোসেন, স্ত্রী জোবাইদা ইয়াছমিন এবং শিশু সন্তান ইমাম হোসেনের লাশ এবং পুলিশের হাতে আটক জহিরুল হক ও তার স্ত্রী রাজিয়াকে সনাক্ত করতে সীতাকুণ্ডে নিয়ে যান পুলিশের একটি বিশেষ দল। এ বিষয়টি স্বীকার করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদ কবির জানান, এ দুই বৃদ্ধকে সীতাকুন্ড নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাইশারীতে জঙ্গি সদস্য থাকার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে আইনণ্ডশৃংখলা বাহিনীকে।

বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow