Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ১৬:২৫ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ১৬:৫৯
শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের মিছিল
নাটোর প্রতিনিধি:
শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের মিছিল

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের দক্ষিণ নারিবাড়ীতে মোজাম্মেল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা তাদের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছেন। এ অভিযোগে আজ সকাল ১১টায় তারা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করে।

এসময় তারা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসএম শহিদুল আজম মুন্টুর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘুরে গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস প্রদক্ষিণ করে স্কুলে ফিরে আসে।  

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসএম শহিদুল আজম মুন্টু পড়ানোর ছলে চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীদের শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন। তিনি ছাত্রীদের মোবাইলে বাজে ছবি দেখান। প্রাইভেট পড়ানোর সময়েও ওই শিক্ষক ছাত্রীদের সাথে একই ধরণের আচরণ করেন। এমন ঘটনায় ছাত্রীরা বেশ কয়েকবার ওই শিক্ষকের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের কাছে অভিযোগ করে। পরে অভিভাবকদের চাপের মুখে এলাকায় কয়েকবার সালিশী বৈঠকও হয়েছে। গ্রাম্য সালিশের পরেও ওই শিক্ষক ছাত্রীদের সাথে একই ধরণের আচরণ করায় বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে যায়।  

ওই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর অভিভাবক জানান, তার পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে বলেছে ‘ওই স্কুলে পড়ানোর থেকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলো’। অন্য কয়েকজন ছাত্রীর অভিভাবক জানান, এসএম শহিদুল আজম মন্টু দীর্ঘদিন ধরে সহকারি শিক্ষক হিসাবে ওই বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগেও একাধিকবার তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। ছয় মাস আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার অবসর নেয়ার পর ওই বিতর্কিত শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি আরো বেপোরোয়া হয়ে উঠেন।  

কয়েকজন শিক্ষক জানান, তিনি ওই স্কুলে যোগদানের পর থেকেই ছাত্রীরা তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ করে আসছে কিন্তু সামাজিকতার ভয়ে শিক্ষকসহ অভিভাবকরা বিষয়টি চেপে গেছেন। দীর্ঘদিন ওই শিক্ষক ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি করায় বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের উপস্থিতিও অনেক কমে গেছে। সর্বশেষ এর জেরে আজ দুপুরে ছাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ক্লাস বর্জন করে প্রায় তিন কোলামিটার পথ পায়ে হেঁটে মিছিল করে উপজেলা সদরে যায়।  

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক এসএম শহিদুল আজম মন্টু বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ মিথ্যা। তাকে হেয় করতেই প্রতিপক্ষের লোকজন এমন অভিযোগ করেছেন।  

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ দুলাল প্রামাণিক বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানার পর মৌখিকভাবে কয়েকদিন আগে শিক্ষা অফিসারকে তিনি অবগত করেছেন। পার-গুরুদাসপুর ও বামনকোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শিক্ষা অফিসার তদন্তে পাঠিয়ে ছিলেন। তারা তদন্ত করেছেন তবে তারপর কি হয়েছে তা জানিনা।  

তিনি আরো জানান, এধরনের শিক্ষকের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিৎ। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম ছাত্রীদের মিছিল নিয়ে তার অফিসে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সে সময় তিনি অফিসে ছিলেন না। তবে শিক্ষক এসএম শহিদুল আজম মুন্টুর বিরুদ্ধে এধরনের অভিযোগের কথা কয়েকদিন আগে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি দুলাল প্রামাণিক তাকে বলেছেন। এইচএসসি পরীক্ষার কারণে কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।  

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম সহকারি থানা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছেন যেই কমিটি খুব দ্রুত তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট দিবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, তিনি এ ব্যাপারে মৌখিকভাবে জেনে প্রথমিক শিক্ষা অফিসারকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখে দ্রুতই তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।  

 

বিডি প্রতিদিন/২১ এপ্রিল ২০১৭/হিমেল

আপনার মন্তব্য

up-arrow