শিরোনাম
২৫ মে, ২০১৭ ১১:৩১

তীব্র দাবদাহ ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে নাকাল শরীয়তপুরবাসী

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

তীব্র দাবদাহ ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে নাকাল শরীয়তপুরবাসী

শরীয়তপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দিন-রাত মিলিয়ে ২-৩ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না গ্রাহকরা। দুর্বিষহ সাধারণ মানুষ অস্থির হয়ে পড়ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানার উৎপাদন স্থবির হয়ে রয়েছে। বিপর্যয় কাটিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও ৩-৪ মাস সময় লাগবে বলে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে।

গত এক সপ্তাহে তীব্র দাবদাহে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে জনজীবন। কিছুতেই কমছে না ভ্যাপসা গরম। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে লোডশেডিং। বেশি নাকাল হচ্ছেন সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমিক, অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ছোট ছোট বাচ্চা শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীর সংখ্যা। 

শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র জানায়, কালবৈশাখী ঝড়ে ভৈরবের ক্রসিং টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শরীয়তপুরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৩৮টি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় ঘটেছে। কুমিল্লা ও ঢাকা অঞ্চলের দুটি ২৩০ কেভি লাইন থেকে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। কিন্ত সাম্প্রতিক ঝড়ে ওই দুটি লাইনের ভৈরব নদী ক্রসিংয়ের টাওয়ারটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে এখন মাত্র একটি লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু একটি লাইন দিয়ে চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জাতীয় গ্রিড থেকে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরিতে মাত্র ১১-১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। 

এতে গ্রাহকসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে পল্লীবিদ্যুতের ওপর তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছে। বিভিন্ন উপজেলাতে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপর হামলা ও ভাংচুরের ঘটনাও ঘটছে। বিদ্যুতের দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ করছে গ্রাহকরা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাময়িক এ দুর্ভোগ কাটিয়ে উঠতে গ্রাহকদের সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।

ভেদরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ আমাদের জীবনের সাথে কীভাবে জাড়িয়েছে তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছি এখন। এক সপ্তাহের অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়েই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। সামনে ঈদ, প্রচণ্ড দুঃশ্চিন্তায় আছি।

নড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ২৪ ঘণ্টায় যদি দুই ঘন্টাও বিদ্যুৎ না পাই তাহলে সে বিদ্যুৎ দিয়ে লাভ কি? লোডশেডিংয়ে আমার পাঁচ হাজার টাকার আইসক্রিম নষ্ট হয়ে গেছে। বাসার ফ্রিজে যে মাছ মাংশ নষ্ট হয়েছে তাতেও অন্তত ৭-৮ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কী আমার ক্ষতিপূরণ দেবে? তাহলে নিউজ করে লাভ কি? এ দেশে তো আইন নেই।

শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশল মো. শাহ আলম বলেন, বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে অস্বস্থিকর অবস্থায় রয়েছি। আশা করি, রমজানের আগেই পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে। পুরোপরি সংকট কাটতে ৩-৪ মাস সময় লাগতে পারে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভৈরবের ক্রসিং টাওয়ারটি চালু না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।


বিডি প্রতিদিন/২৫ মে, ২০১৭/ফারজানা

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর