Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২০ জুন, ২০১৭ ০১:০৩ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২০ জুন, ২০১৭ ০৮:৫১
স্বামীকে ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার গার্মেন্টস কর্মী
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
স্বামীকে ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার গার্মেন্টস কর্মী

মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় পদ্মার চরে এক গার্মেন্টস কর্মীকে সি-বোট চালক ও তার সহকারী ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার দিবাগত রাতে স্বামীকে ডাক্তার দেখিয়ে বরিশাল থেকে ঢাকায় ফেরার পথে সি-বোটে পদ্মা নদী পার হওয়ার সময় চালক ও তার সহকারী ওই গার্মেন্টস কর্মীকে জোর করে চরে নিয়ে ধর্ষণ করে।  

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিচুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রবিবার রাত আনুমানিক ১০টায় ভিকটিম তার স্বামীর বাড়ি বরিশালের কাউনিয়া উপজেলার পলাশপুর গ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ফেরিতে করে লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাটে আসার জন্য রাত ১২টা নাগাদ তিনি কাঠালবাড়ি ঘাটে এসে পৌঁছান। ফেরিটি দেরি করায় ওই গার্মেন্টসকর্মীসহ আরও কয়েকজন কাঠালবাড়ি ফেরি ঘাট থেকে একটি সি-বোটে উঠে পদ্মা পাড়ি দেয়। সি-বোটটি শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছালে অন্য যাত্রীরা তাদের নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে নেমে যান। এ সময় মেয়েটি পাচঁশ টাকা নোট দিলে তা ভাংতি না থাকার অজুহাতে কৌশলে মেয়েটিকে দেরি করায় সি-বোট চালক ও তার সহকারী। সাথে থাকা অন্য যাত্রীরা  দূরে চলে গেলে সি-বোট চালক ও সহকারী সেটিকে ঘুরিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে চরে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে চর থাপ্পড় মেরে চরে নামিয়ে ধর্ষণ করে তারা। এক ঘণ্টা পর রাত আড়াইটায় মেয়েটিকে শিমুলিয়া ঘাটে নামিয়ে দিয়ে ধর্ষক দু’জন সি-বোটটিকে ঘাটে রেখে পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটিকে অসুস্থ অবস্থায় এক রিকশাচালক লৌহজং থানায় নিয়ে আসে। মেয়েটির বর্ণনা অনুযায়ী লৌহজং থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাদা রঙ্গের সি-বোটটিকে শিমুলিয়া ঘাট থেকে জব্দ করে। পুলিশ ধর্ষক দু’জনের পরিচয়ও উদ্ধার করেছে। একজন সিবোট চালক লৌহজংয়ের কুমাভোগ ইউনিয়নের ওয়ারী গ্রামের মজিদ কম্পানীর ছেলে রাজিব কম্পানী ও অপরজন উপজেলার মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের চন্দ্রের বাড়ি গ্রামের আব্দুল মালেক শিকদারের ছেলে মিঠু শিকদার।  

তবে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এই বিষয়ে মেয়েটি নিজে বাদি হয়ে সোমবার লৌহজং থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা পুলিশ মেয়েটিকে তার নিজস্ব ঠিকানায় পাঠিয়েছে।  

বিষয়টি শিমুলিয়া ঘাট এলাকাসহ জেলার সচেতন মানুষ অপরাধীদের আটকসহ এর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।  

বিডি প্রতিদিন/১৯ জুন ২০১৭/এনায়েত করিম

আপনার মন্তব্য

up-arrow