Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট, ২০১৭ ১৮:১৩ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০১৭ ১৯:১৬
বগুড়ায় পানিবন্দী অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
বগুড়ায় পানিবন্দী অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ৫৮টি চর গ্রমের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করছে।

এতে জেলার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় বানভাসিদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। গত জুলাই মাসের শেষে বন্যা থেকে মুক্তি পেয়ে ঘরে ফিরতে না ফিরতেই আবারো বন্যায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে যমুনা পাড়ের মানুষ।  

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৭১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যমুনা নদী তীরবর্তী সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৫০টির বেশি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।  

জানা যায়, গত শুক্রবার থেকে বগুড়ার কাছে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। শনিবার হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমা অতিক্রম করে। রবিবার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার নিম্নাঞ্চল আবার পানিতে ডুবে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় তা বন্ধের উপক্রম হয়েছে।  

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানি আরো বাড়তে পারে। সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী, কাজলা, হাটশেরপুর, কনির্বাড়ি, সদর, চন্দনবাইশা, বোহাইল, কামালপুর ও কুতুবপুর ইউনিয়নের ৫৮টি চর গ্রমের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ ছাড়াও যমুনায় প্রবল স্রোতে চকরতিনাথ, করমজা পাড়া, বিরামের পাঁচগাছি, বহুলাডাঙ্গা, মানিকদাইড়, পাকুড়িয়া, ধাড়াবর্ষা ও মাঝিড়াচরের বিরাট অংশ থেকে দরজা-জানালা ভেসে গেছে।  

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ধারাবর্ষা চরের আব্দুস সাত্তার, সাহেব আলী জানান, চোখের সামনে রাতের বেলা দরজা-জানালাগুলো ভেসে গেছে। শনিবার রাতে হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘরে প্রবেশ করেছে।  

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জানান, বন্যা মোকাবেলার জন্য প্রাস্ততিও রয়েছে ব্যাপক। প্রথম দফার বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, শুকনা খাবার ছাড়াও নগদ টাকা ও ঢেউটিন বিতরণ অব্যহত আছে। তবে দ্বিতীয় দফার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দীদের জন্য বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।  

জুলাই মাসের বন্যায় বগুড়ার যমুনা তীরবর্তী ৩ উপজেলা সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্ব পার্শ্বের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে লোকজন ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে না উঠতেই আবারও বন্যায় বানভাসিরা চিন্তায় পড়েছে। জুলাইয়ের বন্যায় ৩ উপজেলার নিম্মাঞ্চল প্লবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় সারিয়াকান্দি উপজেলায়। এখানকার ৯টি ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়।  

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে পানি কমতে শুরু করে। পানি কমে যাওয়ার পর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের আশ্রয় নেয়া লোকজন বাড়িতে ফিরে যায়। আর দু’সপ্তাহ পার না হতেই যমুনার পানি আবারো বৃদ্ধি পাওয়ায় সারিয়াকান্দির নদী তীরবর্তী নিম্মাঞ্চলগুলো পানি উঠতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এসব এলাকার অনেক ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় লোকজন  আবার বাড়ি ঘর ছেড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছে।

বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, যমুনা নদীর সাথে বাঙালি নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদী এলাকার কিছু এলাকায় পানি উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তরা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৭১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিডি-প্রতিদিন/১৩ আগস্ট, ২০১৭/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

up-arrow