Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:৫২ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
লংগদুতে বইছে শান্তির সুবাতাস
ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি
লংগদুতে বইছে শান্তির সুবাতাস

দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস পর শান্তির সুবাতাস বইছে রাঙামাটির লংগদু উপজেলায়। ঘরে ফিরছে পাহাড়ি-বাঙালীরা।

স্বস্তি দেখা দিয়েছে জনমনে। একে অপরের প্রতি ফিরছে আস্থা ও বিশ্বাস। তাই স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিল বন্ধন রচনা করতে খুব বেশি সময় লাগবে না বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন যুবলীগ নেতা খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে লংগদু উপজেলায় দেখা দেয় দুর্বৃত্তায়ন। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সহিংসতার আগুনে পুড়ে যায় লংগদু উপজেলার তিনটিলা, মানিকজোড় ছড়া ও বাট্টাপাড়া গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বাড়ি-ঘর। সে সময় অনেকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাঙালীদের বিরুদ্ধে। সে ঘটনায় একে অপরের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ে স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালীরা।

এদিকে, লংগদু উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিকারগুলো পুর্নবাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রকল্প।

সে প্রকল্পের আওতায় নতুন বাড়ি-ঘর নির্মাণে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়ে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান।

তিনি বলেন, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে লংগদু উপজেলার তিন গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়ি-ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া এক বছর পর্যন্ত সরকারিভাবে ২২৪টি পরিবারকে ৩০ কেজি চাল ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ওই ঘটনার পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঠিকানা ছিল- আশ্রয় কেন্দ্রে, ভাড়া বাসায় ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি। কিন্তু সরকারি সহায়তা পাওয়ার পর আবার নিজ নিজ বসত ভিটায় ফিরতে শুরু করেছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। কেউ কেউ চালা ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে পুরা ভিটেতে। তাদের দাবি শীত মৌসুমের আগেই নির্মাণ করে দেওয়া হোক তাদের বাড়ি-ঘর।

এ ব্যাপারে লংগদু আটারকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঙ্গল কুমার চাকমা জানান, গৃহহীন মানুষগুলো এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে। শীত মৌসুমে এ অবস্থায় থাকলে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়ি-ঘর দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করা হলে, শীত মৌসুমে এসব মানুষগুলো একটু স্বস্তিতে বসবাস করতে পারবে।

তবে লংগদু সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছিল। নিয়মিত খবর রেখেছে স্থানীয় প্রশাসনও। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দিয়েছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষার্থীদের বই খাতাসহ সব সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এখন সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে তাদের ঘর নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/১২ অক্টোবর ২০১৭/আরাফাত

আপনার মন্তব্য

up-arrow