Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৮:৪২ অনলাইন ভার্সন
নবজাতক ও প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ২
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:
নবজাতক ও প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ২

বগুড়ার শেরপুরে ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে তোলা পালস্ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অবহেলায় প্রসূতি পুতুল রানী (২৫) ও তার নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের আজ বগুড়ার আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক পলাতক রয়েছে।

মামলা অভিযুক্তরা হলেন, হাসপাতালের মালিক ডা. আখতারুল আলম আজাদ, গাইনী সার্জন ডা. লুৎফুন নেছা, ব্যবস্থাপক আমিনুর ইসলাম ও ওয়ার্ডবয় ইউসুফ আলী। এদের মধ্যে আমিনুর ও ইউসুফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং দুই চিকিৎসক পলাতক রয়েছে। 

বগুড়ার শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পশ্চিম পাশে হামছায়াপুর কাঁঠালতলা এলাকায় পালস জেনারেল হাসপাতালটি অবস্থিত। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ২টার সময় প্রসব বেদনার কারণে ওই প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে অপারেশন করানো হয়। এসময় নবজাতক মারা যায়। একইসঙ্গে ওই প্রসূতিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তিনিও মারা যান। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ওই প্রসূতিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। 

কিন্তু শজিমেক কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে নেয়ার আগেই প্রসূতি পুতুলী রানী মারা গেছেন। পরে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়ে ব্যব্স্থাপক ও ওয়ার্ড বয়কে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

পুতুল রানীর স্বামী শিবেন হাওলদার বলেন, হাসপাতালে রোগীকে ভর্তির সময় কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। ওয়ার্ডবয় তাকে একটি ভর্তির কাগজে স্বাক্ষর করে নেয়। তারপর সকালে অপারেশনের পর সন্তান ও পরে স্ত্রীও মারা যায়। থানায় তিনি নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার

আপনার মন্তব্য

up-arrow