Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২০ মার্চ, ২০১৮ ২০:২৩ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২০ মার্চ, ২০১৮ ২০:২৫
ওসি জালালের বাড়িতে শোকের মাতম
'আমার জালাল আমার আগে চলে গেল'
শেখ রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ:
'আমার জালাল আমার আগে চলে গেল'

রাজধানীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ডিবি'র ইন্সেপেক্টর জালাল উদ্দিনের (৪৮) গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিহতের খবর পাওয়ার পর থেকেই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের ভোলপাড়া গ্রামে শোকের আবহ বিরাজ করছে। এদিকে হঠাৎ করেই মধ্যরাতে তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে অনেকটাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে তার বৃদ্ধ মাসহ পরিবারটি। 

জালাল উদ্দীনের বৃদ্ধ মা আয়েশা খাতুন নিহত ছেলের ছবি বুকে নিয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করতে করতে তিনি বলছেন, 'আমার ছেলের সাথে আর দেখা হবে না। আমাকে না বলে আমার জালাল আমার আগে চলে গেল। দুই তলা বাড়ি থুয়ে কোন তলায় যাচ্ছেরে। এই বাড়িটিতে তুই আমাকে রাখতে চেয়েছিলি। এখন আমি কার সাথে থাকবো।'

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা আয়েশা বেগম বলেন, ৩ মাস আগে জালাল বাড়িতে এসেছিল। কয়েকদিন থাকার পর ঢাকায় যাওয়ার আগে সে আমাকে বলে, ৩ মাস পর আবার আসবে।

তিনি আরও বলেন, সবাই বেঁচে গেল আর আমার ছেলে মারা গেল। এ কষ্ট আমি আর ভুলতে পারছি না। 

এরপর কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা গেলেন। কিছুক্ষণ পর আবার বললেন, 'তুই এবার বাড়ি এসে আমার সাথে তো আর কথা বলবি নে। আমার ওষুধ কে কিনে দেবে। আমার জন্য ফল আর কেউ কিনে আনবে না। '

মেজ ভাই আলাউদ্দিন বলেন, গ্রামে পাশের স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষার পর পুলিশে যোগ দেয় তার ভাই। প্রমোশন পেয়ে এসআই হয়েছিল। অভিযানকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে জালাল উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন পরিবারটি।

ভোলপাড়া গ্রামের মৃত বিশারত মন্ডলের ৭ সন্তানের মধ্যে নিহত জালাল উদ্দিন ছিলেন পরিবারের ৩ নম্বর সন্তান। তারা ৫ ভাই ও দুই বোন। গ্রামের বাড়িতে যৌথ পরিবার হিসাবে অন্যান্য ভাইয়েরাও একসাথে বসবাস করে। 

নিহত জালাল উদ্দীনের বাল্যবন্ধু গোলাম রসুল জানান, জালাল দারুণ মেধাবী ও সামাজিক মানুষ ছিল। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করার স্বীকৃতিস্বরুপ জালাল রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছেন। 

উল্লেখ্য, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার সময় রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগের তিনতলা একটি বাড়িতে কয়েকজন সন্ত্রাসী অবৈধ অস্ত্র জড়ো করছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দুপক্ষের গোলাগুলির সময় পরিদর্শক জালাল উদ্দিনের মাথায় গুলি লাগে। এসময় তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। 

নিহত জালাল উদ্দিন ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদকপ্রাপ্ত হন পুলিশের এই কর্মকর্তা। গত তিন মাস পূর্বে পদোন্নতি সূত্রে তিনি সূত্রাপুর থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগের পল্লবী জোনাল টিমে যোগদান করেন। তার দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে তৃপ্তি ঢাকা ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং ছোট মেয়ে তুর্জা একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার সবুজবাগ থানার পূর্ব বাসাবোর একটি বাড়িতে থাকতেন। 


বিডি প্রতিদিন/২০ মার্চ ২০১৮/হিমেল

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow