Bangladesh Pratidin

ফোকাস

  • সুন্দরবনের ৩ জলদস্যু বাহিনীর ৫৭ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:০৬ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ২০:২৭
লক্ষ্মীপুরে পুকুর খনন করতে গিয়ে জাহাজের মাস্তুলের সন্ধান
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে পুকুর খনন করতে গিয়ে জাহাজের মাস্তুলের সন্ধান

লক্ষ্মীপুরে পুকুর খনন করতে গিয়ে জাহাজের মাস্তুলের সন্ধান পাওয়া গেছে। মেঘনা উপকূলীয় এলাকা রামগতির চর আফজল গ্রামের ঘটনা এটি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক জাহাজটি উদ্ধারের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। 

স্থানীয় এলাকাবাসীর ধারণা, শত বছর আগে নদীতে ডুবে যাওয়ার পর মাটি চাপা অবস্থায় পড়ে আছে বিশাল আকৃতির একটি জাহাজ। মাটি খুঁড়ে জাহাজ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্ত থেকে কৌতুহলী লোকজন এক নজর দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন।  

জানা যায়, সম্প্রতি মেঘনা উপকূলীয় এলাকা লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নের চর আফজল গ্রামে মাহফুজ নামের একজন কৃষক বাড়ির জন্য পুকুর খনন করছিলেন। এসময় ১০/১২ফুট গভীরে গেলে জাহাজের মাস্তুল দেখতে পান শ্রমিকরা।

পরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্থানীয়রা টিউবওয়েল মিস্ত্রি দিয়ে পাইপ বোরিং করায়। আশেপাশের দুই-তিনশ ফুট এলাকা জুড়ে বোরিং করা হয়। তাতে দেখা যায় ১২-১৪ ফুট গভীরে গেলে পাইপ আটকা পড়ে। একইভাবে বেশ কয়েকবার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বোরিং করে এলাকার লোকজন নিশ্চিত হয়েছেন এটি বিশাল আকৃতির ‘জাহাজ’। 

পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। খবর পেয়ে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক আ স ম আব্দুর রবও ঘটনাস্থলে ছুটে যান বলে জানান স্থানীয়রা। মাস্তুল ঘিরে নানা আলোচনা ও মন্তব্য এখন মানুষের মুখে-মুখে। খবর ছড়িয়ে পড়লে দূর-দূরান্ত থেকে কৌতুহলী লোকজন এক নজর দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন।

স্থানীয়দের মতে, একসময় (প্রায় দেড়/দুই শ’ বছর আগে) চর রমিজ ইউনিয়নসহ উপজেলার বিশাল অংশ ছিলো উত্তাল নদী। বঙ্গোপসাগর সংযুক্ত এই নদী ছিলো বিশাল। এই রুটে চলাচল করতো বড় বড় জাহাজ। পুর্তগিজদেরও এই পথে যাতায়াত ছিলো। সেই সময়ে ডুবে যাওয়া জাহাজ হতে পারে এটি। পরবর্তীতে পলি জমে নদী চরে রুপান্তরিত হয়। নদীর বুকে জেগে উঠা চরে ফসল উৎপাদন ও বসতি গড়ে উঠে। এতে মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় ডুবে যাওয়া জাহাজ। 

চর আফজল গ্রামের বাসিন্দাদের ধারনা, জাহাজটি পুর্তগিজদের। প্রাকৃতির দুর্যোগ কিংবা কোনো দুর্ঘটনায় জাহাজটি নদীতে ডুবে গেছে। পরবর্তীতে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই জাহাজে মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। এখন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক জাহাজটি উদ্ধারের দাবী এলাকাবাসীর। 

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজগর আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।  

মহান স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক আ স ম আব্দুর রব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মাটির নিচে জাহাজ রয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে এমনটি নেই। ওই স্থানে বঙ্গোপসাগর সংযুক্ত বিশাল নদী ছিলো । ওই রুটে চলাচল করতো বড় বড় জাহাজ। শত বছর পূর্বে পুর্তগিজদের এই পথে যাতায়াত ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে ওই সময়ে ডুবে যাওয়া জাহাজটিতে শত কোটি টাকার মুল্যবান সম্পদ রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ জাহাজটি উদ্ধার করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান তিনি।

 

বিডি প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত তাফসীর

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow