Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২০ জুন, ২০১৮ ২১:১২ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২০ জুন, ২০১৮ ২১:৫৫
জামাইকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ শ্বশুরের বিরুদ্ধে
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
জামাইকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ শ্বশুরের বিরুদ্ধে
bd-pratidin

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার কয়ড়া পূর্বপাড়া গ্রামের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের পিচুটিয়া শ্বশুরালয়ে হারুর অর রশিদ (২৩) নামের এক যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। আত্মহত্যার কথা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টাকে নিহতের পরিবার মানতে নারাজ। নিহতের মা-ভাইসহ পরিবারের দাবি তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।্আজ বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের পরিবার টাঙ্গাইল থানা পুলিশের কাছ থেকে লাশ বুঝে নিয়ে ধনবাড়ীতে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করেছে।

হারুন ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের কয়ড়া পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে।  গত মঙ্গলবার (১৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের গালা ইউনিয়নের পিচুটিয়া গ্রামে শ্বশুর আমজাদ হোসেন আঞ্জুর বাড়ির ঘরের ফ্যান থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গত সোমবার (১৮ জুন) রাতে হারুন তার বন্ধুকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে গিয়েছিলেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয় মাতাব্বর আলাল উদ্দিন জানান, তিন বছর আগে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের পিচুটিয়া গ্রামের আমজাদ হোসেন আঞ্জুর মেয়ে নাসরিন আক্তার ওরফে মৌসুমীর (২০) সাথে হারুনের বিয়ে হয়। নানা খুঁনসুটিতে মাঝে মধ্যে স্বামী-স্ত্রীতে ঝগড়া বিবাধ হতো। গত ঈদের আগে শ্বশুর আমজাদ ধনবাড়ীতে জামাই বাড়ি এসে মেয়েকে নিয়ে যেতে চাইলে হারুন মৌসুমীকে যেতে দেইনি। এ নিয়ে সামান্য রাগারাগিতে শ্বশুর হুমকি দিয়ে শাসিয়ে যায়। পরে এক আত্নীয়ের মিথ্যা মৃত্যু খবর দিয়ে মৌসুমীকে বাড়িতে নেয়া হয়। মৌসুমৗ সোমবার স্বামীকে ফোন করে যেতে বলেন। এতে হারুন একা না গিয়ে তার বন্ধু কামরুল হাসানকে সাথে নিয়ে সোমবার রাতে শ্বশুর বাড়ি পিচুটিয়া যান। তাদেরকে আপ্যায়ন ছাড়াই থাকতে দেয়া হয় বারান্দায়। পরেরদিন সকালে খাওয়া দাওয়ার পর হারুন ও কামরুলকে পৃথক করে আলাপ করেন আত্মীয়রা। কিছুক্ষণ পর কামরুলকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে তারা দেখান হারুন ঘরের ফ্যানে ওড়নায় ফাঁস দিয়েছেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ও কামরুলকে রেখে আত্মীয়রা তাদের দুই জনের মোবাইল নিয়ে সেখান থেকে গা ঢাকা দেন। পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের ছোট ভাই মানিক জানান, তার ভাই আত্মহত্যাা করতে পারেন না। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার ওসি সায়েদুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া করা হয়েছে। শ্বশুর বাড়িতে জামাতার আত্নহত্যা রহস্যজনক। আপাতত অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow