Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৬ জুলাই, ২০১৮ ১৫:৩৫ অনলাইন ভার্সন
কলারোয়ায় বিলুপ্তপ্রায় গ্রাম বাংলার ঐহিত্যবাহী গরুর গাড়ি
কলারোয়া(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
কলারোয়ায় বিলুপ্তপ্রায় গ্রাম বাংলার ঐহিত্যবাহী গরুর গাড়ি

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়কার জনপ্রিয় বাহন গরুর গাড়ি। কিছু দিন আগেও কেঁড়াগাছী, বাঘাডাঙ্গা, কাকডাঙ্গা, ভাদিয়ালি, সোনাবাড়িয়া, গয়ড়া, চন্দনপুর, জয়নগর, জালালাবাদ, হেলাতলা, কুশোডাঙ্গা, কেরালকাতা, দেয়াড়া, যুগিখালী, কয়লা, লাঙ্গলঝাড়া, বেয়ালিয়া,শাহাপুর, রামচন্দপুর, গোয়ালচাতরসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দেখা মিলতো। গরুর গাড়ির মর্যাদা ছিল সর্বত্র। বিয়ে-শাদি থেকে শুরু করে যে কোন অনুষ্ঠানে মানুষ বহনের জন্য ‘ছই ওয়ালা’ গরুর গাড়ির কোন বিকল্প ছিল না। মানুষ পরিবহনের পর গরু গাড়ি হরহামেশা ব্যবহৃত হতো মাঠের ফসল আনা-নেয়ার কাজে। সেটাও যেন এখন বিলুপ্ত প্রায় আধুনিকতা আর যান্ত্রিক বাহনের আধিক্যতায়। এমনকি ফসল কাটার পর ফাঁকা মাঠে গরুর গাড়ির প্রতিযোগিতা হতো কার গরু আগে যায় দেখার জন্য। সেই বিশেষ প্রতিযোগিতাও এখন আর দেখা যায় না। বাঁশ আর বাঁশের চটা দিয়ে পিছনের ফ্রেম তৈরি করে গরুর গাড়ি বানানো হতো। সেই গাড়ির চাকার জন্য কামারের কাছ থেকে লোহার পাত সংযুক্ত করা হতো। শতভাগ জ্বালানীবিহীন ও পরিবেশবান্ধব গরুর গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে কোনো খরচ হতো না। শুধু দরকার ছিল গাড়ি বহনের দু’টি গরুর এবং তাদের পরিচর্যা।
 
উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের ৯০ বছর বয়সী নজরুল ইসলাম বলেল, কলারোয়ায় এক সময় প্রতিনিয়ত গরুর গাড়ি চলত উপজেলার সর্বত্র। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় হারিয়ে যেতে বসেছে সেই গরুর গাড়ি। অবশ্য এখনো মাঝে মধ্যে দুই-একটি গরুর গাড়ি চোখে পড়ে। কিন্তু সেগুলোর অবস্থাও নাজুক। তিনি আরো বলেন, শহরের ছেলে মেয়েরা তো দূরের কথা গ্রামের ছেলে মেয়েরাও গরুর গাড়ি  সাথে খুব ভালোভাবে পরিচিত নয়। আগে গরুর গাড়ি ছিল অনেকের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন। 

কেঁড়াগাছী গ্রামের মুনছুর আলী বলেন, আমার বাবা গরুর গাড়ি চালিয়ে উপার্জন করে আমাদের বড় করেছেন। ইঞ্জিনচালিত যানবাহন আসার পর থেকে মানুষের গরুর গাড়ির প্রতি চাহিদা কমেছে।

কুশোডাঙ্গা গ্রামের গরুর গাড়ির মালিক সুব্রত বলেন, আগে মাঠ ফসল ও মালামাল বহন করার জন্য গরুর গাড়ির বিকল্প ছিল না। শুধু মালামালই নয়, বিয়ের জন্য বা আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার অন্যতম বাহন ছিলো এটি। 

তিনি আরো বলেন, এখন আমরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার বা মাইক্রো ক্রয় করি, ঠিক তেমনি কয়েক যুগ আগে গ্রামের অবস্থাসম্পন্ন মানুষেরা গরুর গাড়ি নিজের ব্যবহারের জন্য তৈরি করতেন। মাঝেমধ্যে তা আবার ভাড়াও দিতেন। এখন গরু আছে, কিন্তু গাড়ি নেই। গরুর গাড়ি এখন স্মৃতি হতে চলেছে। যুগের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই পরিবেশবান্ধব গরুর গাড়ি আমরা হারিয়ে ফেলছি।'

বিডি-প্রতিদিন/১৬ জুলাই, ২০১৮/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

up-arrow