Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৭ জুলাই, ২০১৮ ১২:৩৩ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৭ জুলাই, ২০১৮ ১৬:৪৮
ঘোষণা দিয়ে নববধূকে অপহরণের পর গণধর্ষণ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
ঘোষণা দিয়ে নববধূকে অপহরণের পর গণধর্ষণ
প্রতীকী ছবি

কুষ্টিয়ার খোকসায় ঘোষণা দিয়ে নববধূকে অপহরণের পর দলবেধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহরণের তিনদিন পর সংজ্ঞাহীন গৃহবধূকে বাবার বাড়িতে ফেলে গেছে অপহরণকারীরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের রমানাথপুর গ্রামের হাবিবর রহমান শেখের ছেলে রাজমিস্ত্রী দবির শেখ ও তার সঙ্গীরা কোমরভোগ পশ্চিমপাড়ার এক কৃষক কন্যাকে উত্যক্ত করে আসছিল। নেতাদের কাছে বিচার চেয়ে প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে পাশের গ্রামে মেয়েকে বিয়ে দেয় ওই কৃষক।
শনিবার সকালে ওই নববধূ বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি যাচ্ছিল। এসময় দবির ও তার সঙ্গীরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার তিনদিন পর সোমবার সকালে অপহরণকারীরা একটি মোটরসাইকের করে গৃহবধূকে তার বাবার বাড়ি ফেলে রেখে যায়। পরিবারের লোকেরা গুরুতর অসুস্থ গৃহবধূকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড কারা হয়।
গৃহবধূর চাচা সাংবাদিকদের জানান, বাড়ির ঘর তোলার কাজে গিয়ে রাজমিস্ত্রি দবির ওই কিশোরীকে (বর্তমান গৃহবধূ) বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। এতে মেয়ের পরিবার রাজি না হওয়ার তাকে উত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়। এতেও রক্ষা হলো না। প্রথম থেকে নির্যাতিত পরিবার রাজমিস্ত্রি দবিরের বিরুদ্ধে গ্রামের নেতাদের কাছে বিচার চেয়ে ছিল। কিন্তু বিচার পায়নি। দবির তার ঘোষণা অনুযায়ী মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষন করে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে গেছে। এ ঘটনায় তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধর্ষিতা গৃহবধূর পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানালেন, ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য সাবিনা পারভিন। তিনি বলেন, প্রভারশালী রাজমিস্ত্রী দবির ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ঘোষণা দিয়ে এই নববধূকে অপহরণ করে এবং গণধর্ষণের পর বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ আশরাফুল আলম জানান, গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার উন্নতির হচ্ছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ দেওয়ায় তার পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
খোকসা থানার ওসি (তদন্ত) তালুকদার আসাদুজ্জামান জানান, ‘ঘটনাটি শুনে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়েছিলাম। কিন্তু মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলতে পারেনি।’ এ পর্যন্ত থানায় কেউ মামলা করতে আসেননি বলে তিনি জানান।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow