Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৮ ১৮:৫৯ অনলাইন ভার্সন
কাপ্তাই হ্রদে অবৈধ মাছ শিকার ও পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান
ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি
কাপ্তাই হ্রদে অবৈধ মাছ শিকার ও পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান
কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারের একাংশ।

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ মাছ শিকার ও পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বিএফডিসি। গত ২ মাসে জব্দ করা হয় বিপুল মাছ ও মাছধরার সরঞ্জাম। তবুও বন্ধ করা যাচ্ছে অবৈধ পন্থায় মাছ পাচার। 

অভিযোগ রয়েছে, কাপ্তাই হ্রদে সুষ্ঠু ও প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশ বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে মাছ আহরণের উপর বর্তমানে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তারপরও পাচার হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকার মাছ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে মাছ শিকার। চোরা কারবারীদের সহায়তায় এক শ্রেণীর অসাধু জেলে হ্রদে প্রতিনিয়ত অবৈধ মাছ শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় প্রকাশ্য বিক্রি হচ্ছে ডিমওয়ালা মা মাছসহ সব ধরনের মাছ। 

এছাড়া অবৈধ ব্যবসায়ীরা মাছ পাচারে কুরিয়ার সার্ভিসও ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে খুদ বিএফডিসি কর্মকর্তারা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এক শ্রেনীর অসাধু মাছ ব্যবসায়ী পুকুরের মাছের অনুমতিপত্রের আড়ালে প্রতিনিয়ত কাপ্তাই হ্রদের নিষিদ্ধ মাছ প্রকাশ্য বাজারে বিক্রিসহ অন্যত্র পাচার করছে। এছাড়া বিএফডিসি ঘোষিত কাপ্তাই হ্রদ এলাকার মৎস্য অভয়াশ্রমগুলো থেকে মাছের পোনা চুরি করে পাচার করা হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় কতিপয় জেলে কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন এলাকায় ডিমওয়ালা মাছসহ জাল দিয়ে সব ধরনের মাছ শিকার করছে। এতে সুতার জাল, কাচকি জাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি শিকারীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত মাছের আবাসস্থল ও অভয়াশ্রমে ডিম পাড়ার স্থান চিহ্নিত করে অক্সিজেন লাগিয়ে দক্ষ ডুবুরির ন্যায় হ্রদের পানির নিচ থেকে পোনা ধরে পাচারকারীদের নিকট বিক্রি করছে। এজন্য পাচারকারী চক্র অগ্রিম টাকাও দেয় শিকারীদের। বর্তমানে মৎস্য প্রজননের স্বার্থে সরকারিভাবে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য শিকার নিষিদ্ধ থাকলেও অবাধে চলছে অবৈধ মাছ শিকার। তবে রাঙামাটির প্রায় ৭২৫ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত বিশাল কাপ্তাই হ্রদ এলাকা পাহারা দেয়ার মতো লোকবল বিএফডিসির না থাকার কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানান বিএফডিসির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

তবুও রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে বিএফডিসি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন অধিদপ্তরের রাঙামাটি জেলা কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খাঁন আসাদ। তিনি বলেন, চলতি বছরে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে বন্ধকালীন (মে ও জুন মাস) উল্লেখযোগ্য হারে অবৈধ মাছ ও সরঞ্জাম জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। তার মধ্যে জব্দকৃত কাচা মাছের পরিমাণ ছিল- ২ হাজার ১ কেজি।  আর শুটকি ছিল- ১৫৪ কেজি। যার বাজার মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার ৩৩৫ টাকা। এছাড়া একই সাথে জব্দ করা সম্ভব হয় অবৈধ মাছ বহণকারী ইঞ্জিন চালিত বোট ও মাছ ধরার জাল। তার মধ্যে ইঞ্জিন চালিত বোট ছিল মোট ৮টি। আর সাধারণ বোট ছিল ৬০টি। অবৈধ জব্দকৃত জালের  মধ্যে ছিল- কেচকি জাল ৭টি আর সুতার জাল ছিল ৪০০পিচ অর্থাৎ ১০হাজার ৫০০মিটির। এসব জালের বাজার মূল্য ১ লাখ ১৩ হাজার, ৮৫০ টাকা। রাঙামাটি বিএফডিসি চেষ্টা করেছে সল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে অবৈধ মাছ পাচারকারীকে জব্দ করতে।

কমান্ডার আসাদ আরও বলেন, ২০১৭ সালে অবৈধ জাঁক উচ্ছেদ অভিযানে নামে বিএফডিসি। কাপ্তাই হ্রদ থেকে জাঁক নিমূল করার লক্ষ্যে নৌ পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমান আদালত সহায়তা করে। এতে ৮০ভাগ জাঁক কাপ্তাই হ্রদ থেকে নির্মুল করা সম্ভব হয়েছে। এন অভিযানের পর গত বছর কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন কাপ্তাই হ্রদে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭-১৮ সালে কাপ্তাই হ্রদ হতে ১০১৪০.৭৮ মেট্টিক টন মাছ উৎপাদন হয়। যার রাজস্ব আয় ১৩২৩.৯৭ টাকা। এটা বিএফডিসির অনেক বড় অর্জন। 

প্রসঙ্গত, গত ১ মে থেকে কাপ্তাই হ্রদের মাছের সুষ্ঠু ও প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশ বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বাড়াতে চলতি বর্ষা মৌসুমে অনির্দিষ্টকালের জন্য হ্রদে সবধরণের মাছ শিকার ও আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। একই সাথে হ্রদের অভয়াশ্রমগুলোতে অবমুক্ত করা হয়ন পর্যাপ্ত কার্প ও সিলভার কার্প জাতীয় মাছের পোনা। এছাড়া মাছের উৎপাদন বাড়াতে বছরের সব ঋতুতে কাপ্তাই হ্রদে ৯ ইঞ্চি সাইজের পর্যন্ত পোনামাছ শিকার নিষিদ্ধ থাকে।

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow