Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:০৬ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৪ আগস্ট, ২০১৮ ১৪:৪১
পর্যটনের নতুন দিগন্ত 'ডিম পাহাড়'
কবির হোসেন সিদ্দিকী, বান্দরবান:
পর্যটনের নতুন দিগন্ত 'ডিম পাহাড়'
বান্দরবান ডিম পাহাড়
bd-pratidin

বাংলাদেশের পর্যটনের এক নতুন দিগন্ত বান্দরবানের ডিম পাহাড়। প্রায় ২৫  থেকে ৩০ হাজার ফুট উচ্চতার এই পাহাড় দেখতে অনেকটা ডিমের মতো স্থানীয়রা একে ডিম পাহাড় নামে ডেকে থাকে। তবে এই পাহড়ের বুক চিড়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নির্মাণ করেছে দেশের সব চেয়ে উচু সড়ক।

ডিম পাহাড়ের আশেপাশে বসবাসকারী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের মধ্যে ডিম পাহাড় নিয়ে উপকথা প্রচলিত আছে। উপকথাটা এই রকম, উশে প্রু খুব মা ভক্ত ছেলে। মাকে সে খুবই ভালোবাসে। ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর মা’ই তার একমাত্র সম্বল। সেই মা একদিন খুব অসুস্থ পড়লেন। প্রাণ যায় যায় অবস্থা। গ্রাম্য ওঝা উশের মাকে দেখে জানালেন এই রোগ নিরাময়যোগ্য নয়। ধুঁকে ধুঁকে তার মাকে মরতে হবে। তবে মাকে বাঁচানোর একটা উপায় আছে। কিন্তু সেই উপায় অত্যন্ত ভয়ংকর। প্রাণপ্রিয় মাকে বাঁচানোর জন্য উশে যেকোনো ঝুঁকি নিতে রাজি। সে জানতে চাইল কি করতে হবে।

 উশের সম্প্রদায় যেখানে বসবাস করে সেখান ৩ দিনের হাঁটা দূরত্বে ডিম পাহাড়ের অবস্থান। প্রতি পূর্ণিমা রাত্রিতে ডিম পাহাড়ের চূড়ায় এক অদ্ভুত ফুল ফোটে। আবার সকালবেলায় সেই ফুল ঝরে পড়ে। সেই ফুলের রস যদি খাওয়ানো যায় তবেই উশের মা সুস্থ হবে।

ডিম পাহাড়ে আজ পর্যন্ত কেউই পৌঁছাতে পারে নি। যারাই চেষ্টা করেছে তারাই নিরুদ্দেশ হয়েছে। অনেকে বলে সেই পাহাড়ে এক দানব থাকে যে কিনা ফুলগুলোকে পাহারা দেয়। কেউ পাহাড়ে উঠলেই দানবটা তাকে মেরে ফেলে। এতসব জানা সত্ত্বেও উশে সিদ্ধান্ত নিলে সে যাবেই। একা যেতে সাহস না পাওয়ায় বন্ধু থুই প্রুকে সাথে নিয়ে রওনা দিল ডিম পাহাড়ের উদ্দেশ্যে।

পাহাড়ি পথে তিন দিন তিন রাত হাঁটবার পর অবশেষে তারা পৌছাল ডিম পাহাড়ের চূড়ার কাছাকাছি। থুই প্রুকে রেখে উশে একাই পাহাড়ের চূড়ার দিকে চলল। প্রয়োজন তার, ঝুঁকি সে একাই নিবে। থুই প্রু দেখল তার বন্ধু ধীরে ধীরে পাহাড়ের চূড়ার দিকে উঠে যাচ্ছে। ঠিক মাঝরাতে আকাশ যখন পূর্ণিমার আলোয় উদ্ভাসিত, তখন উশেকে আবারও দেখতে পেল থুই। থুইকে উদ্দেশ্য করে উশে কিছু একটা ছুঁড়ে মারল। সেটা গড়াতে গড়াতে থুইয়ের কাছাকাছি এসে থামল। থুই দেখে একটা থলে যার ভিতরে পাথর আর তাদের অতি আকাঙ্খিত পাহাড়ি ফুল। উশেকে ইশারা দিয়ে থুই জানাল যে সে ফুলগুলো পেয়েছে। উত্তরে উশে জানাল সে নিচে নামবে, থুই যেন তার জন্য অপেক্ষা করে। উশের সাথে থুইয়ের সেই শেষ দেখা। আর কোনদিন তার খোঁজ পাওয়া যায় নি। পুরো একদিন একরাত থুই উশের জন্য অপেক্ষা করে ফেরত আসে। মা ভালো হয়ে গেলেও উশে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায়। কিন্তু মায়ের জন্য তার এই আত্মত্যাগ চিরদিনের মত টিপরাদের মনে স্থায়ী যায়।

ডিম পাহাড়ের অবস্থান আলীকদম এবং থানচি থানার ঠিক মাঝখানে। এই পাহাড় দিয়েই দুই থানার সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। খুব দুর্গম এই পাহাড়ে যাওয়ার কোনো উপায় এতদিন ছিল না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আলীকদম থানচি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণে সময় লেগেছে ১০ বছর।
 
আলিকদম-থানচি আঞ্চলিক সড়ক এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবথেকে উঁচু রাস্তা। আলীকদম এই রাস্তা উপরের দিকে উঠেছে এবং ডিম পাহাড়ের কাছাকাছি রাস্তার উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ২৫০০ ফুট। সেখান আবার নিচের দিকে নেমে থানচিতে গিয়ে শেষ হয়েছে।

এদিকে ডিম পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেকোন মানুষকে মন ভুলিয়ে দিতে পারে। বর্তমানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ডিম পাহাড় ভ্রমণ করছে। 

বিডি-প্রতিদিন/ ই-জাহান

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow